লাইটার জাহাজে জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ নৌ পরিবহন সমন্বয় সেল (বিডব্লিউটিসি) সতর্ক করেছে যে, লাইটার জাহাজে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না হলে শিগগিরই দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গত সোমবার জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বিডব্লিউটিসি'র আহ্বায়ক আলহাজ শফিক আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সমন্বয় সেল জানায়, জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি—মেরিন ডিলারদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী লাইটার জাহাজগুলোতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, জ্বালানির সংকটের কারণে এসব জাহাজ নিয়মিতভাবে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য তুলতে বা খালাসের জন্য পরিবহন করতে পারছে না। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যকর লাইটার জাহাজের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, যা ক্রমান্বয়ে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বহির্নোঙরে অবস্থান করা বড় মাদার ভেসেল থেকে বন্দরের জেটি ও দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহনে লাইটার জাহাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে সরাসরি বন্দরের দক্ষতা কমে যায়। এই অবস্থায়, বিডব্লিউটিসি সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় বাড়িয়ে দেবে, ফলে মাদার ভেসেলগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারে। পাশাপাশি ডেমারেজ খরচ বেড়ে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার দেশের বাইরে চলে যাবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, "এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে এবং ভোক্তা পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।" সংকট এড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মেরিন ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি, যাতে লাইটার জাহাজের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন থাকে। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকেরও অনুরোধ জানিয়েছে বিডব্লিউটিসি। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই দেশের আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ পরিচালিত হয়। বন্দর সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, এর কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।