• দেশজুড়ে
  • পেকুয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড লবণ মাঠ, ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি

পেকুয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড লবণ মাঠ, ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পেকুয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড লবণ মাঠ, ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি

সাদ্দাম হোসাইন, কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজাররের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোররাতের আকস্মিক ভারী ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠভর্তি উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন লবণ পানিতে মিশে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের স্বপ্ন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এতে পেকুয়ায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মগনামা, রাজাখালী, উজানটিয়া ও সদর ইউনিয়নের বেশিরভাগ লবণ মাঠই পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাস্টিক মোড়ানো মাঠে সাদা ঝকঝকে লবণের স্তর এক রাতের বৃষ্টিতে গলে গিয়ে মিশে গেছে জমে থাকা পানিতে। লবণ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা বেড বা ‘কাই’ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে মাঠ প্রস্তুত করতে চাষিদের আরও ৫ থেকে ৭ দিন সময় ও অতিরিক্ত খরচ লাগবে। মগনামা শতঘোনা এলাকার লবণচাষী লিয়াকত আলী বলেন, “মৌসুমের শেষ সময়ে একটু বেশি লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করেছি। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েক শ মণ লবণ শেষ। এখন আবার নতুন করে মাঠ তৈরি করতে হবে, যা খুব ব্যয়বহুল।” উজানটিয়া করিয়ারদ্বিয়া এলাকার চাষী মনজুর আলম জানান, “বাজারে লবণের দাম আগেই কম। তার ওপর এই ঝড়ে সব শেষ। ঋণ করে মাঠ নিয়েছি—এখন কীভাবে তা শোধ করব বুঝতে পারছি না।” পেকুয়ার চারটি ইউনিয়নে (রাজাখালী, মগনামা, উজানটিয়া ও সদর) প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার ৫০০ একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এখান থেকে ২.৫ থেকে ৩.৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন সম্ভব। তবে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে এই অঞ্চলের কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দাবি, প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে খরচ পড়ে ২৫০–২৮০ টাকা, কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা আগেই লোকসানের মুখে ছিলেন। তার ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো মৌসুমটাই চাষিদের জন্য অনিশ্চয়তায় ভরপুর হয়ে উঠেছে। অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে মাঠ ইজারা নিয়েছেন, যা এখন তাদের জন্য আরও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লবণচাষিরা অতি দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ, প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা চলতি মৌসুমে আবারো উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।