সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এ গুচ্ছ ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর 'এ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম, যবিপ্রবি এর হেল্প ডেস্কে ব্যবহৃত ব্যানারে ছাত্রদলের ট্যাগলাইন ও রাজনৈতিক নেতাদের ছবি প্রদর্শনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক স্থাপন করে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম, যবিপ্রবি। এদিন হেল্প ডেস্কে ব্যবহৃত ব্যানারে ছাত্রদলের ট্যাগলাইন ও রাজনৈতিক নেতাদের ছবি সংযুক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কঠোর সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেন, একটি অরাজনৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাহসিন আরাফাত বলেন, যবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যানারে ছাত্ররাজনীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম’-এর কার্যক্রমে স্পষ্ট রাজনৈতিক উপস্থিতি ও দলীয় স্লোগান ব্যবহারে বিষয়টি আরও প্রকাশ্য হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে সুবিধাও দিচ্ছে। আজ ভর্তি পরীক্ষায় রাজনৈতিক নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার ব্যবহার ও শোডাউন শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একটি রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থী এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান শিহাব বলেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ট্যাগলাইন ও নেতাদের ছবি ব্যবহার করে তথাকথিত “হেল্প ডেস্ক” স্থাপন নীতিমালাবিরোধী। শিক্ষার্থীদের সহায়তার নামে এ ধরনের কার্যক্রম মূলত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা বলেই প্রতীয়মান হয়। সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চাইলে তা রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতীক পরিহার করেই করা উচিত। দলীয় ট্যাগলাইন ও নেতাদের ছবি সংবলিত এমন উদ্যোগ শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং নিরপেক্ষতা নষ্ট করে। এটি শুধু অনৈতিক নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের আদর্শ ও শৃঙ্খলার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ ধরনের রাজনৈতিক প্রদর্শনী বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনের নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখার জোর দাবি জানাই।
এ বিষয়ে জানতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরামের সেচ্ছাসেবী সালেক খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততা দেখিয়ে সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, যবিপ্রবি'র ১০৩ তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও যবিপ্রবির সকল শিক্ষার্থীদেরকে ‘‘Rules of Discipline for Students’’ এর Part-1 এর General Rules এর ধারা (Students must not be involved in politics directly or indirectly within the University premises (meeting, demonstration, forming human-chain, creating obstacles to any academic activities); but with the permission of lawful authority of the university and proctor/provost, organizational/other activities can be permitted.) এবং কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে “যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১” এর ধারা ৪৭ (৫) এবং “সাধারণ আচরণ, শৃঙ্খলা ও আপীল সংক্রান্ত বিধি” এর বিধি-৩ এর (জ) (“কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রাজনৈতিক মতামত প্রচার করিতে পারিবেন না বা তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সহিত জড়িত করিতে পারিবেন না।”) যথাযথ অনুসরণ করার জন্য বলা হয়। উপরোক্ত আইন/বিধি ও সিদ্ধান্তের আলোকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী,শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সকল প্রকার রাজনীতি সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হয়। যবিপ্রবির উক্ত আইনের ধারা ও এ আদেশ অমান্য করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শাস্তি প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।