ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এখনো নেভেনি, এরই মধ্যে ইউরোপজুড়ে বড়সড় যুদ্ধের অশনি সংকেত দিলেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট। মিত্র দেশগুলোর ‘আত্মতুষ্টি’ (Complacency) দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ তিনি। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জার্মানির বার্লিনে এক হাই-প্রোফাইল ভাষণে রুট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, ইউক্রেনের পর ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার পরবর্তী লক্ষ্য হতে যাচ্ছে ন্যাটো নিজেই।
ন্যাটো প্রধানের মতে, রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় এখনই যদি ‘ডিফেন্স ক্যাপাবিলিটি’ বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা না বাড়ানো হয়, তবে বিশ্বকে ফের সেই অন্ধকার যুগে ফিরে যেতে হবে, যা আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম প্রত্যক্ষ করেছিল।
‘সময় আমাদের পক্ষে নেই’
বার্লিনের ভাষণে মার্ক রুট ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ঢিলেঢালা মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমার আশঙ্কা—অনেকেই চুপচাপ আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। তারা মনে করছে, হাতে হয়তো অনেক সময় আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সময় মোটেও আমাদের পক্ষে নেই। আমরাই রাশিয়ার পরবর্তী টার্গেট (Next Target)। এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার সময়, কাল নয়।”
রুট সতর্ক করে বলেন, ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশই ইউরোপে রাশিয়ার আগ্রাসী মনোভাবের গুরুত্ব বা ‘জিওপলিটিক্যাল রিস্ক’ অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই উদাসীনতা পুরো মহাদেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
অতীতের বিভীষিকা ফেরার ভয়
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার ইঙ্গিত টেনে মার্ক রুট আবেগঘন অথচ কঠোর ভাষায় মিত্রদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “আমরা যদি এখনই প্রস্তুত না হই, তবে আমাদের দাদা-দাদি বা তাদের বাবা-মায়েরা যে ভয়াবহ যুদ্ধ ও ধ্বংসলীলা দেখেছিলেন, ঠিক সেরকম পরিস্থিতি আবারও ফিরে আসতে পারে।”
যুদ্ধ ঠেকাতে হলে কেবল কূটনৈতিক আলোচনায় কাজ হবে না, বরং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিই একমাত্র পথ—এমনটাই মনে করেন ন্যাটো প্রধান। তার মতে, অবিলম্বে ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন’ (Defense Production) বা সমরাস্ত্র উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানো জরুরি।
৫ বছরের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের শঙ্কা
রাশিয়ার সামরিক পুনর্গঠন নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছেন মার্ক রুট। তিনি জানান, রাশিয়া ইউরোপে আবার যুদ্ধ ফিরিয়ে এনেছে এবং তারা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে।
রুট বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সংঘাত এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে সরাসরি ‘মিলিটারি অ্যাকশন’ বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের মতো সক্ষমতা অর্জন করে ফেলতে পারে।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ন্যাটো প্রধানের কণ্ঠে ছিল চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, “দায়িত্বজ্ঞানহীনতার দিন শেষ। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কোনো মিথ্যা অজুহাত বা গড়িমসি আর বরদাশত করা হবে না। কারণ, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।”