• বিনোদন
  • গুলশানে পথচারীকে মারধর ও ‘রেইজ বেইট’ বিতর্ক: মনিকা কবির ইস্যুতে বিস্ফোরক সালমান মুক্তাদির

গুলশানে পথচারীকে মারধর ও ‘রেইজ বেইট’ বিতর্ক: মনিকা কবির ইস্যুতে বিস্ফোরক সালমান মুক্তাদির

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
গুলশানে পথচারীকে মারধর ও ‘রেইজ বেইট’ বিতর্ক: মনিকা কবির ইস্যুতে বিস্ফোরক সালমান মুক্তাদির

কথিত মডেলের আচরণকে ‘ভিক্টিম কার্ড’ হিসেবে ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করে আসল ভুক্তভোগীদের নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন জনপ্রিয় এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর; ভিডিও বার্তায় তুললেন একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন।

রাজধানীর গুলশানে এক পথচারীকে মারধরের অভিযোগে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কথিত রুশ-বাংলা মডেল মনিকা কবির। সেই উত্তপ্ত বিতর্কে এবার ঘি ঢাললেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মনিকার কর্মকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ এবং ‘জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টির কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেছেন তিনি।

‘ভিক্টিম কার্ড’ বনাম প্রকৃত নিগৃহীত নারী

সালমান মুক্তাদিরের মতে, মনিকা কবিরের এই ঘটনাটিকে কোনোভাবেই ‘ভিক্টিম ইস্যু’ বা নারীর ওপর হেনস্তা হিসেবে তুলে ধরা ঠিক নয়। সালমান মনে করেন, মনিকার এই অপেশাদার আচরণকে যদি নিগ্রহ হিসেবে প্রচার করা হয়, তবে সমাজে প্রকৃতভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীদের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, অপরাধ ও অপরাধীর কোনো লিঙ্গ হয় না এবং মনিকার কর্মকাণ্ড প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইনফ্লুয়েন্সারদের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা

মনিকার পক্ষ নেওয়া বেশ কয়েকজন ‘ইনফ্লুয়েন্সার’-এর ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন সালমান। তিনি বলেন, “বিদেশে বসে বা দেশের বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই অনেকে এই ইস্যুতে মন্তব্য করছেন। তারা বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো অবিচারকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।” সালমানের দাবি, তথ্য যাচাই না করে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে জনমত গঠন করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।

সবটাই কি ‘রেইজ বেইট’ কন্টেন্ট?

ভিডিও বার্তায় সালমান মুক্তাদির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি শব্দ ব্যবহার করেছেন— ‘রেইজ বেইট’ (Rage Bait)। তার ভাষ্যমতে, মনিকা কবির যে ধরনের ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন, তার মূল উদ্দেশ্যই হলো সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে ভিউ এবং এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানো। নেতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার এই ডিজিটাল কৌশলকে তিনি ‘পরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেন।

নেপথ্যে মা: সালমানের বিস্ময়

মনিকার প্রকাশিত ভিডিওগুলো ধারণ করেন তার মা—এই তথ্যটি সামনে এনে সালমান বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “একজন মা তার নিজের মেয়েকে প্রকাশ্যে হেনস্তা হতে দেখেও কীভাবে ক্যামেরার পেছনে স্থির থাকতে পারেন এবং দৃশ্যটি ধারণ করতে পারেন, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক।” এই বিষয়টি থেকেই সালমান ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ভিডিওগুলো হয়তো স্রেফ নাটকীয়তা তৈরির জন্য তৈরি করা হয়েছে।

প্রকৃত ভুক্তভোগীরা আড়ালে পড়ার শঙ্কা

নারীদের প্রতি সব ধরণের হয়রানির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকা সালমান মুক্তাদির জানান, যেখানে অপরাধ হবে সেখানে অবশ্যই ‘অ্যাকশন’ নেওয়া উচিত। তবে তার শঙ্কা, মনিকার মতো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের এই ধরণের ‘Staged’ বা সাজানো ভিডিওর ভিড়ে যখন কোনো নারী সত্যি সত্যিই রাস্তায় হেনস্তার শিকার হবেন, তখন মানুষ সেটিকেও স্ক্রিপ্টেড ড্রামা ভেবে এড়িয়ে যাবে। এতে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বড় হুমকির মুখে পড়বে।

বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এসে যে কেউ কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন, তবে তার মধ্যে সততা এবং সামাজিক মূল্যবোধ থাকা জরুরি বলে মনে করেন এই অভিনেতা। মনিকা কবিরের এই বিতর্কিত কাণ্ড এখন শুধু একটি বিচ্ছিন্ন মারধরের ঘটনা নয়, বরং ডিজিটাল নীতিমালার ক্ষেত্রেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Tags: social media viral video content creator celebrity reaction gulshan incident salman muqtadir monica kabir rage bait victim card digital controversy