প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়ে চোখের জাদুতে রাতারাতি ‘ভাইরাল’ হয়েছিলেন মোনালিসা ভোঁসলে। নেটিজেনদের কাছে তিনি পরিচিতি পান ‘কুম্ভমেলা গার্ল’ হিসেবে। এক সাধারণ মালা বিক্রেতা থেকে রুপালি পর্দার নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, যার নেপথ্যে ছিলেন পরিচালক সনোজ মিশ্র। কিন্তু সেই রূপকথার গল্পে এখন এক তিক্ত মোড় এসেছে। মোনালিসার আকস্মিক বিয়ের খবরে কেবল বিস্মিত নন, বরং চরম ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই নির্মাতা।
৬ মাসের প্রেম ও পুলিশি পাহারায় বিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১১ মার্চ) মোনালিসা ভোঁসলে দীর্ঘ ৬ মাসের পরিচয় ও প্রেমের পর ফরমান খান নামক এক যুবককে বিয়ে করেছেন। তবে এই বিয়েটি সহজ ছিল না। ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র বাধা আসে। শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় মোনালিসা পুলিশের শরণাপন্ন হন। অবশেষে পুলিশি পাহাড়ায় বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) তাঁদের বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
১০ কোটির ঋণ ও পরিচালকের হাহাকার মোনালিসার এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেয়েছেন পরিচালক সনোজ মিশ্র। ২০২৫ সালের কুম্ভ মেলায় মোনালিসাকে আবিষ্কার করার পর তাঁকে নায়িকা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সনোজ। তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘দ্য ডায়েরি অব মণিপুর’-এ (The Diary of Manipur) মোনালিসাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজের সুযোগ করে দেন তিনি। এমনকি তাঁর পড়াশোনার যাবতীয় খরচও বহন করছিলেন এই নির্মাতা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সনোজ মিশ্র বলেন, “আমি মোনালিসাকে গঙ্গার মতো পবিত্র আর প্রকৃতির মতো সুন্দর মনে করেছিলাম। তাঁকে খ্যাতির আলোয় নিয়ে আসাটাই ছিল আমার জীবনের বড় ভুল। এই সিনেমাটি শেষ করতে আমি বাজার থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ঋণ (Debt) নিয়েছি। এখন এই বিয়ের সিদ্ধান্তে আমার পুরো প্রোজেক্টটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।”
ষড়যন্ত্র ও তদন্তের দাবি পরিচালকের দাবি কেবল পেশাদারিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তিনি ফরমান খানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। সনোজের ভাষ্যমতে, ফরমান টাকার লোভেই মোনালিসাকে ফাঁদে ফেলেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, কিছুদিন আগে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একটি মিথ্যা ধর্ষণের মামলা এবং জেল খাটার পেছনেও ফরমানের হাত ছিল। এই পুরো ঘটনাটিকে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র (Conspiracy) হিসেবে অভিহিত করে সঠিক তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় মোনালিসার এই ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেটিজেনদের (Netizens) মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। একাংশ মনে করছেন, ব্যক্তিগত জীবনে সঙ্গী নির্বাচন করার অধিকার মোনালিসার একান্তই নিজস্ব। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন নির্মাতার কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ ও স্বপ্নের সাথে এমন অপেশাদার আচরণ ইন্ডাস্ট্রির জন্য অশনিসংকেত।
সব মিলিয়ে, মালা বিক্রেতা থেকে ভাইরাল সেনসেশন হওয়া মোনালিসার জীবন এখন আর শুধু রূপালি পর্দার গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ১০ কোটি টাকার দায়বদ্ধতা, সাম্প্রদায়িক স্পর্শকাতরতা এবং এক নির্মাতার নিঃস্ব হওয়ার হাহাকার—সব মিলিয়ে এই ‘ম্যারেজ কন্ট্রোভার্সি’ এখন এক জটিল আইনি ও সামাজিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।