রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে প্রকাশ্যে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগে তীব্র আইনি জটিলতায় পড়েছেন রাশিয়ান বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার (Social Media Influencer) মনিকা কবির। জনৈক পথচারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার দায়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা ও মামলার প্রেক্ষাপট
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণের ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। একইসঙ্গে মামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (OC) নিবিড় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
টিকটক বনাম মানবিকতা: ঘটনার বিস্তারিত
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে গুলশান-২ এলাকার 'রয়েল ব্লু' ভবনের বিপরীত পাশের ফুটপাতে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। সেখানে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক (TikTok)-এর জন্য কন্টেন্ট তৈরি করছিলেন মনিকা কবির। এ সময় এক বৃদ্ধ পথচারী সেখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তার ব্যাগটি অনিচ্ছাকৃতভাবে মনিকার গায়ে লাগে।
এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এই মডেল। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো কথা না শুনেই বৃদ্ধের ওপর চড়াও হন, তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার ব্যাগ কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও সাইবার বিতর্ক
ঘটনাটি কেবল শারীরিক লাঞ্ছনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মনিকা কবির ইচ্ছাকৃতভাবে এই পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে তা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশ করে দেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল (Viral) হয়ে গেলে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী বৃদ্ধকে জনসমক্ষে আরও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পাবলিক প্লেসগুলোতে ভিডিও বা রিলস তৈরির হিড়িক পড়েছে। তবে একজন সিনিয়র সিটিজেনের সাথে এ ধরণের অপেশাদার আচরণে ক্ষুব্ধ সচেতন সমাজ। মামলার বাদী সাজ্জাদ আল ইসলাম আদালতে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করেছেন। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ফেম (Fame) পাওয়ার নেশায় অন্যের ব্যক্তিগত অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এক ধরণের ডিজিটাল অপরাধের আওতায় পড়ে।
এখন দেখার বিষয়, পুলিশের তদন্তে ঘটনার কী ধরণের সত্যতা বেরিয়ে আসে এবং জনপ্রিয় এই মডেলের বিরুদ্ধে আদালত পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।