রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে (Evercare Hospital) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শারীরিক জটিলতার পর শুক্রবার (১৩ মার্চ) তার মস্তিষ্কে অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘ অস্ত্রোপচার শুরু হয়। সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রথম দফার অস্ত্রোপচার শেষ হতে না হতেই পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্বিতীয় দফায় তার মস্তিষ্কে পুনরায় সার্জারি শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।
অস্ত্রোপচারের ম্যারাথন সময় ও বর্তমান অবস্থা
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৩টায় মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে প্রথম দফার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রক্রিয়া শেষ হয় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়। তবে অস্ত্রোপচার পরবর্তী পর্যবেক্ষণে কিছু গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকদের বোর্ড জরুরি সিদ্ধান্তে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই ‘Emergency Surgery’ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলমান রয়েছে। নিউরোসার্জনদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তার নিবিড় পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত রয়েছেন।
যেভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন প্রবীণ এই নেতা
মির্জা আব্বাসের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার ইফতারের সময় পানি পান করতে গিয়ে তিনি আকস্মিকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো গুরুতর অভ্যন্তরীণ সমস্যা ধরা পড়ে, যার ফলে চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুতি
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার এই অস্ত্রোপচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে সফল হলে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল (Stable) হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত সিঙ্গাপুরে পাঠানো হতে পারে। মির্জা আব্বাসের পরিবার ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং রোগীকে আকাশপথে বহনের জন্য বিশেষ ‘Air Ambulance’ সহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে।
হাসপাতালে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভিড় ও উদ্বেগ
গুরুতর অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সেখানে দায়িত্বরত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এছাড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে এসে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
মির্জা আব্বাসের আরোগ্য কামনায় তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অসুস্থতার খবরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।