• রাজনীতি
  • শিক্ষাঙ্গনে ‘অযোগ্যদের’ দাপট ফেরানোর তোড়জোড়? সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্তে এনসিপির তীব্র নিন্দা

শিক্ষাঙ্গনে ‘অযোগ্যদের’ দাপট ফেরানোর তোড়জোড়? সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্তে এনসিপির তীব্র নিন্দা

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
শিক্ষাঙ্গনে ‘অযোগ্যদের’ দাপট ফেরানোর তোড়জোড়? সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের সিদ্ধান্তে এনসিপির তীব্র নিন্দা

“শিক্ষকদের ওপর কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাড়াতেই এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ”— শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক রাখার দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটির (Governing Body) সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাঙ্গনে আবারও অযোগ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দাপট বাড়বে, যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

বুধবার (১১ মার্চ) দলের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়।

সচিবালয়ের বৈঠক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিবৃতিতে এনসিপি উল্লেখ করে, গত ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এনসিপির শিক্ষা ও গবেষণা সেল এই উদ্যোগকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ‘Policy Shift’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতির আশঙ্কা জাতীয় নাগরিক পার্টির মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি করা এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার হীন উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"

বিগত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এনসিপি জানায়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাহীন ব্যক্তিরা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি (Nepotism) এবং চরম অব্যবস্থাপনার নজির স্থাপন করেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকা ব্যক্তিরা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের ওপর মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনা চালিয়েছেন।

সংস্কার থেকে পিছু হটার চেষ্টা? উল্লেখ্য যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং সচেতন নাগরিক সমাজের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (Interim Government) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করেছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তটি দেশে 'Quality Education' নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুস্থ ধারার প্রশাসনিক কাঠামো তৈরিতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

এনসিপি মনে করে, হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হবে এক ধরণের পশ্চাদপসরণ। এতে করে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলের মতো আবারও অযোগ্য ও দুর্বৃত্তায়িত শক্তির হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার দাবি বিবৃতিতে দলটির পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা না হয়। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত কোনোভাবেই শিথিল না করার জোর দাবি জানিয়েছে এনসিপি। তারা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (Accountability) নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষিত ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিদেরই নেতৃত্বে রাখা প্রয়োজন।

Tags: education reform ncp bangladesh