জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা নিরসনে এক তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসন ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ায় এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কাছে দল ও নির্বাচনী এলাকার পক্ষ থেকে দুটি পৃথক স্মারকপত্র হস্তান্তর করে।
জাতীয় ঐকমত্য ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন। গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে আইনি কাঠামো দিতে যে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর জোর দেয় এবি পার্টি। তারা প্রস্তাব করেন, কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘যৌথ অভিযান’ এর প্রস্তাব দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুততম সময়ে দেশব্যাপী একটি শক্তিশালী ‘Joint Operation’ বা যৌথ অভিযান শুরুর অনুরোধ জানিয়েছে এবি পার্টি। বিশেষ করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতে এই অভিযানের কোনো বিকল্প নেই বলে প্রতিনিধিদল উল্লেখ করেন। তারা মনে করেন, একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছালে দেশের স্থিতিশীলতা দ্রুত ফিরে আসবে।
বৈশ্বিক সংকটে ‘সার্বজনীন পরামর্শ সভা’ মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি। এই 'Economic Crisis' বা সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, সব রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘National Consultation’ বা সার্বজনীন পরামর্শ সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ন্যায়বিচার ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতিফলন বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের জুলুম এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানায় এবি পার্টি। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবগুলো শোনেন এবং জুলাই-আগস্টের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এবি পার্টির নেতাদের ধন্যবাদ জানান।
এবি পার্টির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।