জাতীয় দল থেকে বিরতির কারণ দীর্ঘদিন জাতীয় দলের জার্সি থেকে দূরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের মধ্যে যেন নতুন করে আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তাঁর বিস্ফোরক ৯০ রানের ইনিংস প্রমাণ করেছে যে তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি। ম্যাচশেষে ডি কক নিজেই স্বীকার করেন, জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার সময়টাই তাঁর এই পরিবর্তনের সূচনা। তিনি বলেন, “অবসরের আগের সময়ে দলের জন্য জেতার ক্ষুধাটা হারিয়ে ফেলছিলাম। সেই সময়টা দূরে থাকা আমার সেই তীব্রতাটা ফিরিয়ে দিয়েছে।”
ক্লান্তি ও একঘেয়েমি থেকে মুক্তি তরুণ বয়সে নিজেকে প্রমাণ করার যে লক্ষ্য ছিল, অভিজ্ঞতার দিনগুলোতে এসে সেই একই প্রতিপক্ষ, একই সিরিজ তাঁকে ক্লান্ত ও একঘেয়ে করে তুলেছিল। ডি কক জানান, এই একঘেয়েমিই তাঁর শক্তি শুষে নিয়েছিল। খানিকটা বিরতি তাঁকে প্রোটিয়াস (দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ডাকনাম) জার্সির প্রকৃত মূল্য বুঝতে সাহায্য করেছে। নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “এভাবে মাঠে নামার অনুভূতি আগে কখনো হয়নি। এখন প্রতিটা ম্যাচ জেতার জন্য খেলছি। দূরে থাকার সময়টা বুঝিয়েছে, আমি আসলে কী হারাচ্ছিলাম।”
প্রত্যাবর্তনে নতুন শক্তি টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার শুরুতে ডি ককের ফর্ম সুখকর ছিল না। নামিবিয়ার বিপক্ষে নিস্তেজ ব্যাটিং, পাকিস্তান সফরে টানা ব্যর্থতা এবং কাটকে প্রথম ম্যাচে শূন্য—সব মিলিয়ে তিনি যেন ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সবকিছু বদলে যায়। বিরতির আগে ব্যাটিংয়ে যে ক্লান্তি ছিল, ফিরে এসে তার জায়গা নিয়েছে তীব্র ক্ষুধা, পরিশ্রম আর নিজের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ। তিনি আরও বলেন, “বিরতিটা আমার জন্য খুব দরকার ছিল। এখন মনে হচ্ছে আরও বহুদিন খেলতে পারবো। আগের মতো মানসিক ক্লান্তি নেই, শরীরও ভালো আছে। দলকে আরও কিছু দিতে চাই।”
টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনার মূল স্তম্ভ ডি কক মুল্লানপুরে ভারতের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ডি ককের আগ্রাসী ব্যাটিং প্রমাণ করে, তিনি এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনার মূল স্তম্ভ। বিশেষ করে আর্শদীপ সিং কিংবা বুমরাহের মতো বিশ্বমানের পেসারের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ফুটওয়ার্ক দেখিয়ে তিনি যেন নিজেকেই পুনরুদ্ধার করলেন। ডি ককের এই ফিরে পাওয়া ফর্ম ২০২৪ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ দলটিকে ২০২৬ সালের বড় মঞ্চে বাড়তি শক্তি দেবে, তা নিয়ে প্রোটিয়াসদের ম্যানেজমেন্টও স্বস্তি পাচ্ছে।