• খেলা
  • শুটিংয়ে যৌন হয়রানি: জিএম হায়দার সাজ্জাদকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ, ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ আচরণ

শুটিংয়ে যৌন হয়রানি: জিএম হায়দার সাজ্জাদকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ, ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ আচরণ

খেলা ১ মিনিট পড়া
শুটিংয়ে যৌন হয়রানি: জিএম হায়দার সাজ্জাদকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ, ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ আচরণ

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (NSC) তদন্ত কমিটি জমা দিল ৯ পাতার রিপোর্ট; শুটার কামরুন নাহার কলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিশেষ নির্দেশনা।

তদন্ত প্রতিবেদনে এলো কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ

সাবেক শুটার এবং বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি তাঁদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত এই কমিটি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শুটারদের লিখিত অভিযোগ, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও অন্যান্য Data বিশ্লেষণ করে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার আগেই অবশ্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাজ্জাদকে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছিল। কমিটি এরপরও নিজেদের কাজ চালিয়ে যায় এবং ৯ পাতার একটি বিস্তৃত Report পেশ করে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিবেদনে মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ রয়েছে।

১০ বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ

তদন্ত কমিটি সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আনা তথ্য ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, তাঁর আচরণ, শুটারদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্দিষ্ট শুটারকে হয়রানি করার প্রবণতা ফেডারেশনের একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব ও শালীনতার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে Inconsistent (অসামঞ্জস্যপূর্ণ)।

এই গুরুতর কারণে তদন্ত কমিটি জিএম হায়দার সাজ্জাদকে দীর্ঘমেয়াদী বা ১০ বছরের জন্য শুটিং অঙ্গন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার বা বাইরে রাখার সুপারিশ করেছে। বিশেষ করে, ভবিষ্যতে তিনি যেন কোনো নারী শুটার কিংবা কোচের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রাখতে না পারেন, সে জন্য কঠোর নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানিয়েছে কমিটি।

প্রতিহিংসার শিকার: শুটার কলির নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা নারী শুটার কামরুন নাহার কলি এই অভিযোগের প্রধান বাদী ছিলেন। তাঁকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কলি গণমাধ্যম ও NSC-তে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। এর মধ্যেই ২০২৬ সালের প্রথম দিনই শুটিং ফেডারেশন কলিকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

তদন্ত কমিটি ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তকে প্রতিহিংসাপরায়ণ (Vengeful) মনে করেছে। তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগকারী শুটারের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শুটাররা যেন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও, নারী খেলোয়াড়দের Counselling-এর সুপারিশ করা হয়েছে। একজন নারী সদস্য, আইনজ্ঞ ও ক্রীড়া প্রশাসনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ে একটি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ Cell বা কমিটি গঠনের প্রস্তাবও এসেছে প্রতিবেদনে।

অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণেও গলদ

শুটিং একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল খেলা। এর অস্ত্র ও গুলির রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও তদন্ত কমিটি গলদ খুঁজে পেয়েছে। দেখা গেছে, অস্ত্রের মজুদাগারের পাসওয়ার্ড শুধু যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দারের কাছে ছিল এবং সেই CCTV Footage এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত থাকত না। কমিটি এজন্য ন্যূনতম তিন মাসের ফুটেজ সংরক্ষণের সুপারিশ করেছে।

কমিটির সদস্যের অনাস্থা ও রত্নার প্রত্যাশা

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সাঁতার ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক নিবেদিতা দাস এবং অন্য দুই সদস্য ছিলেন শাহরিয়া সুলতানা সূচি (সহকারী পরিচালক, NSC) এবং দাইয়ান (শুটিং ফেডারেশনের সদস্য)। তবে দাইয়ানকে কমিটিতে রাখা নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল, এবং তিনি শেষ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেননি।

সাবেক জাতীয় শুটার ও কোচ শারমিন আক্তার রত্না এই ঘটনায় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আইনগত মামলাও করেছেন। তিনি NSC-এর অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তবে তিনি প্রত্যাশা করেন, নারীদের সুরক্ষার স্বার্থে NSC দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেবে যেন সাজ্জাদ ভবিষ্যতে আর কোনোভাবেই ফেডারেশনের Executive Committee-তে আসতে না পারেন। পাশাপাশি মেধাবী শুটার কলির ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ দ্রুত প্রত্যাহারের জন্য তিনি ফেডারেশনকে অনুরোধ জানান।

Tags: sexual harassment gm haider sajjad shooting federation nsc permanent ban kamrun nahar koli inquiry report sports governance sharmin akter ratna