অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোন বাহিনীতেই দুর্নীতির মাধ্যমে বা তদবিরের মাধ্যমে কোন নিয়োগ প্রদান করা হয়নি। দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না; এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙ্গে না-সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। কারার কোনো সদস্য, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়-এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী জনকল্যাণই একমাত্র তার ব্রত। তিনি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরে কাশিমপুর কারাকমপ্লেক্সে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্নকারী নবীন কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন,”নির্বাচন ভন্ডুল বা অস্থিতিশীল করার কোন সম্ভাবনা নেই। ৫ আগস্টের পর যে সকল জঙ্গি সন্ত্রাসী ছিল তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছে। তাদের যারা সমর্থক ছিল সন্ত্রাসী ছিল তারাও এখন নেই। তাদের সাহস নাই বলেই পালিয়ে পালিয়ে নানা কথা বলছে। ওদের ফ্যাসিস্ট জঙ্গি যেগুলো ছিল সেগুলো দেশ থেকে ভেগে গেছে। বিভিন্ন দেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরা অনুরোধ করবো এসব জঙ্গি ও ফ্যাসিস্টদের অন্যান্য দেশগুলো যেন আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়। তাদের সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের আশ্রয় নিয়ে কথা বলুক। তিনি বলেন, নবীন কারারক্ষীরা আজ যে পথে পা রাখতে যাচ্ছেন, তা সম্মানজনক, কিন্তু একই সঙ্গে কঠিন ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। দীর্ঘ সময় কঠোর শারীরিক, মানসিক ও একাডেমিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের প্রস্তুত করেছেন এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য। এই অর্জন আপনাদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও জনগণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, কারাগার অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারাগার রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কারা বন্দিদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করে, অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং সামাজিক পূনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় কারা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারাগারের প্রশাসন পরিচালনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। কারাগারে বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণপূর্বক সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারা বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ সুবিধা, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ কেবল আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থার প্রতিফলন। প্রশিক্ষিত কারারক্ষীরা এই মান বাস্তবায়নের অগ্রপথিক। দেশ প্রেমের মহান দায়িত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা মূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নবীন প্রশিক্ষণার্থীরা সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথি নবীন কারারক্ষীদের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। পরে তাদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহার হোসেন, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল মো. তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম, মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতান উপস্থিত ছিলেন।
৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে ড্রিলে প্রথম স্থান অধিকার করেন লিজা খাতুন, পিটিতে প্রথম স্থান অধিকার মোছাঃ রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, ফায়ারিং এ প্রথম স্থান অধিকার করেন মানসুরা এবং আন আর্মড কম্ব্যট জুথি পারভীন লিখিত পরিক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন মোছাঃ রায়হানা আক্তার সুবর্ণা এবং সর্ব বিষয়ে মোছাঃ রায়হানা আক্তার সুবর্না। তিনি তাদের এই কৃতিত্বের ধারাবাহিকতা নিজ নিজ কর্মস্থলে কাজের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।