• দেশজুড়ে
  • লালমনিরহাটে এক বাড়িতেই ৫ জন জন্মান্ধ নুরনবীর দোতারায় চলে সংসার

লালমনিরহাটে এক বাড়িতেই ৫ জন জন্মান্ধ নুরনবীর দোতারায় চলে সংসার

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
লালমনিরহাটে এক বাড়িতেই ৫ জন জন্মান্ধ নুরনবীর দোতারায় চলে সংসার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

শহর গ্রামের হাটে বাজারে ঘুরে গান গেয়ে যা আয় করেন তা দিয়েই নুরনবী নামের এক যুবকের ৯ সদস্যের পরিবার চলে। শুধু তাই নয় তার পরিবারের ৫ জন সদস্যই জন্মান্ধ। কারও কর্মসংস্থান নাথাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে এই পরিবার। তার ২ বছরের শিশু সন্তান আসিফ সেও চোখে ভালো দেখে না এবং তার চলাফেরাও অন্য শিশুদের চেয়ে আলাদা। ছোট্টো আসিফের চোখের উন্নত চিকিৎসা না হলে তাকেও হয়তো দোতরার সুরের উপরেই নির্ভর হতে হবে ভবিষ্যতে।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত ঘেশা দীঘলটারী গ্রামের শাংকার চওড়া এলাকার এমদাদুল হক (৫৭) সহ তার পরিবারের পাঁচজন সদস্যই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।

কারো কোন কর্মসংস্থান না থাকায় বর্তমানে দুর্বিষহ কষ্টের মধ্যে এই পরিবারটি দিনাতিপাত করছে। তারা যেন এই কষ্টের ভার আর সহ্য করতে পারছেন না। এখন সরকারি -বেসরকারি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা তাদের কষ্ট লাঘবে একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন প্রতিবেশীরা।

সরে জমিনে দীঘলটারি গ্রামে এমদাদুল হকের বসত বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তাদের জীবনের কষ্টগাথা গল্পের কথা। নুরনবীর বাবা এমদাদুল জানান, তিনি জন্ম থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। প্রায় তিন যুগ আগে বিয়ে করেছেন পার্শ্ববর্তী মান্নানের চৌপতি গ্রামের নুরজাহান বেগম (৫৩) কে। তার তিন ছেলে এক মেয়ে এরা সবাই জন্ম থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে -মেয়েরা হলো নূরনবী ইসলাম (২৭) , নুর আলম (২২), লিমন মিয়া (১৯) এবং মেয়ে রেশমা বেগম (১৪)।

এমদাদুল আরো জানান তার কষ্টের কথা, তিনি বলেন, সংসারের শুরুতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া কিছু জমি- জমার উপর নির্ভর করে তিনি সংসার চালিয়ে আসছিলেন। অভাবের তাড়নায় কিছু জমি বিক্রি করে সংসারের ব্যয়ভার বহন করেন তিনি। প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদেরকে কেউ কাজের জন্য ডাকেন না। সরকারি সাহায্য বলতে বর্তমানে তারা মাসে ৮ শত করে টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান।

এমদাদুলের বড় ছেলে নুরনবী ইসলাম গ্রামের হাটবাজারে দোতারা বাজিয়ে ও গান শুনিয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করে সামান্য রোজগার করেন। ওই সামান্য রোজগার দিয়েই তিনি যৌথভাবে সংসার চালান। সামনে পবিত্র রমজান মাস। গানের আসরে লোকসমাগম হবে না এবং আয় রোজগারও হবে না। কিভাবে রোজার মাস কাটাবেন তা নিয়ে বড়ো দুশ্চিন্তা তার। নুর নবীর আসিফ নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। যার বয়স এখন তিন বছর। শিশুটির চোখের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। নুরনবীর অন্য দুই ভাইয়ের মধ্যে নুর আলম মিয়া পাশের মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

আর সবার ছোট রেশমা লালমনিরহাট শহরের হাড়িভাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আর. ডি. আর. এস এর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশুনা করে। সে হারমোনিয়াম বাজাতে ও ভালো গান করতে পারে। রেশমার ইচ্ছা বড়ো হয়ে সে একজন শিক্ষক হবে।

এ বিষয়ে, লালমনিরহাট সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: ফজলুল হক এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সমাজ সেবা অধিদপ্তর ইতিমধ্যে নুরনবীর পরিবারের ৫ সদস্যকে সনাক্ত করে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও তারা চাইলে সহজ শর্তে ঋণ নিতে পাবেন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে। আর সরকারের পাশাপাশি অসহায় এই জন্মান্ধদের পাশে সমাজের বৃত্তবানদের এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Tags: শহর লালমনিরহাট জন্মান্ধ বসত