• রাজনীতি
  • ‘আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, লড়াই পচা সিস্টেমের বিরুদ্ধে’: ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হুঙ্কার

‘আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, লড়াই পচা সিস্টেমের বিরুদ্ধে’: ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হুঙ্কার

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, লড়াই পচা সিস্টেমের বিরুদ্ধে’: ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হুঙ্কার

রাজধানীর কমলাপুরে গণসংযোগকালে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করলেন ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী; প্রত্যাখ্যান করলেন ‘সিমপ্যাথি পলিটিক্স’।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো ব্যক্তির পরিবর্তে ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় হুঙ্কার দিলেন ঢাকা-৮ আসনের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ব্যস্ততম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক ব্যাপক গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “আমরা কারোর বিরুদ্ধে নই, আমাদের লড়াই পচা সিস্টেমের (System) বিরুদ্ধে।”

কমলাপুরে গণসংযোগ ও সিস্টেম বদলের ডাক

এদিন সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের নিয়ে কমলাপুর স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় বা ‘Mass Contact’ করেন নাসীরুদ্দীন। সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনার পাশাপাশি তিনি নিজের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ঢাকা-৮ আসনের প্রতিটি পরতে পরতে এখন চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম জেঁকে বসেছে। আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চাই। তবে এই পরিবর্তন কেবল কোনো মুখ বদল নয়, বরং শোষণের এই পরিকাঠামো বা ‘Infrastructure’ পুরোপুরি পাল্টে দেওয়া।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন না করে অনেকেই কেবল নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চান। তিনি বলেন, “কেউ কেউ সিস্টেম পরিবর্তন না করে আগের সেই পুরনো ব্যবস্থারই ‘নব্য পাহারাদার’ (New Guards) সাজতে চায়। আমরা সেই অপরাজনীতির অবসান ঘটাতে মাঠে নেমেছি।”

প্রচারণায় বাধা ও রাজনৈতিক সহাবস্থান

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার সম্মুখীন হওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-৮ আসনে শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে উস্কানি দেইনি। আমি কোনো বিএনপি নেতার পায়ে পাড়া দিতেও যাইনি। আমরা আইন মেনেই আমাদের প্রচারণা করছিলাম, কিন্তু একদল লোক এসে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমাদের ওপর বাধা সৃষ্টি করেছে।”

তার এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগীদের মধ্যে সহনশীলতার অভাব রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষ হলেও তিনি কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিদ্বেষ ছড়ানোর রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন।

‘সিমপ্যাথি রাজনীতি’ প্রত্যাখ্যান

সমসাময়িক রাজনীতিতে অনেকেরই প্রবণতা থাকে জন সহানুভূতি বা ‘Sympathy’ আদায়ের মাধ্যমে ভোট ব্যাংক ভারি করা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই ঘরানার রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা ‘সিমপ্যাথি পলিটিক্স’ করি না। যদি সস্তা সহানুভূতির রাজনীতি করতে আসতাম, তাহলে রাস্তায় গিয়ে শুয়ে থেকে নাটক করতাম। আমরা আদর্শ ও সিস্টেম পরিবর্তনের লড়াই করছি এবং সেই অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আমরা আপসহীন।”

ঢাকা-৮ আসনের জননিরাপত্তা ও উন্নয়ন

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে ঢাকা-৮ আসনের প্রধান সমস্যা হিসেবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করেন। তিনি মনে করেন, কেবল পুলিশি তৎপরতা দিয়ে সন্ত্রাস বন্ধ করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি এই এলাকাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদে পরিণত করবেন।

নির্বাচনী হাওয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই অবস্থান ও ‘সিস্টেম পরিবর্তনের’ স্লোগান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সচেতন ভোটাররা এই ‘সিস্টেম’ পরিবর্তনের আহবানে কতটা সাড়া দেন।