• আন্তর্জাতিক
  • একটি ইটের সূত্র ধরে যেভাবে উদ্ধার হলো দীর্ঘ বছর নির্যাতিত এক শিশু

একটি ইটের সূত্র ধরে যেভাবে উদ্ধার হলো দীর্ঘ বছর নির্যাতিত এক শিশু

ডার্ক ওয়েবের জটিল রহস্য ভেদ করে একটি ইটের সূত্র ধরে অবিশ্বাস্যভাবে উদ্ধার হলো ১২ বছর বয়সী লুসি।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
একটি ইটের সূত্র ধরে যেভাবে উদ্ধার হলো দীর্ঘ বছর নির্যাতিত এক শিশু

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিভীষিকাময় নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল ১২ বছর বয়সী এক শিশু। ডার্ক ওয়েবে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লেও অপরাধীকে খুঁজে পাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। অবশেষে একটি সাধারণ ইটের দেয়াল এবং গোয়েন্দা গ্রেগ স্কয়ারের অদম্য প্রচেষ্টায় উন্মোচিত হলো সেই রহস্য। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে একটি প্রাচীন ইটের সূত্র ধরে অপরাধীকে শনাক্ত করার এই গল্পটি রোমাঞ্চকর এবং একই সাথে মানবিক এক বিজয়ের উদাহরণ।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের গোয়েন্দা গ্রেগ স্কয়ার যখন ‘লুসি’ (ছদ্মনাম) নামের একটি মেয়ের মামলা হাতে নেন, তখন সেটি ছিল পুরোপুরি দিশাহীন। ডার্ক ওয়েবে মেয়েটির অবমাননাকর ছবি শেয়ার করা হচ্ছিল, যা ট্র্যাক করা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু গ্রেগ দমে যাননি।

অসম্ভব এক তদন্তের শুরু লুসির ওপর যে নির্যাতন চলছিল, তা প্রকাশ পেত ডার্ক ওয়েবের এনক্রিপ্টেড সাইটে। অপরাধীরা প্রতিটি ছবি থেকে শনাক্তকারী মেটাডেটা বা তথ্য মুছে ফেলত। গ্রেগ লক্ষ্য করেন, ছবির পেছনের আবহে বৈদ্যুতিক আউটলেট দেখে বোঝা যাচ্ছিল মেয়েটি উত্তর আমেরিকায় আছে। কিন্তু বিশাল এই মহাদেশে তার সঠিক অবস্থান বের করা ছিল খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো।

ইটের দেয়ালে লুকানো সূত্র তদন্তের এক পর্যায়ে গোয়েন্দারা লুসির ঘরে থাকা একটি সাধারণ ইটের দেয়াল লক্ষ্য করেন। গ্রেগ গুগলের মাধ্যমে ‘ব্রিক ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাথে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তিনি জন হার্প নামের এক প্রবীণ ইট বিশেষজ্ঞের সন্ধান পান। হার্প ছবিটি দেখে নিশ্চিত করেন যে, এটি একটি বিশেষ ধরনের ইট যার নাম ‘ফ্লেমিং আলামো’। এই ইটগুলো ষাটের দশক থেকে আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে তৈরি ও বিক্রি হতো।

‘ভারী বস্তু বেশি দূরে যায় না’ জন হার্প গোয়েন্দাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন—ইট খুব ভারী জিনিস, তাই এটি তৈরির কারখানা থেকে সাধারণত বেশি দূরে সরবরাহ করা হয় না। এই একটি তথ্যই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গোয়েন্দারা তাদের পূর্ববর্তী একটি সূত্রের (একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সোফা) ক্রেতা তালিকার সাথে এই ইট কারখানার ১০০ মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের তালিকা মেলাতে শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চূড়ান্ত অভিযান তালিকা ছোট হয়ে আসার পর গোয়েন্দারা ফেসবুকে লুসির একটি ছবি খুঁজে পান, যেখানে তাকে এক আত্মীয়ের সাথে দেখা যায়। সেই ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ওই বাড়িতে লুসির মায়ের প্রেমিকের বসবাস ছিল, যে কি না আগে থেকেই একজন সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্টরা অভিযান চালিয়ে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে।

মানবিক এক সমাপ্তি ধরা পড়ার পর জানা যায়, ওই ব্যক্তি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। আদালত তাকে ৭০ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড প্রদান করেন। উদ্ধার হওয়া লুসি এখন বিশের কোঠায়। সম্প্রতি গোয়েন্দা গ্রেগ স্কয়ারের সাথে তার দেখা হলে লুসি জানান, এখন তিনি অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং অন্যদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন। যা একসময় তার কাছে ছিল অকল্পনীয়।

Tags: human rights usa news homeland security crime investigation child-abuse-case greg-square dark-web-crime