ইরানে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিরতার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। শনিবার তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারবিরোধী স্লোগানে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও শোক র্যালি ইরানের শিয়া ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ৪০তম দিনে শোক পালিত হয়। সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে ‘৪০তম দিন’ পালনের অংশ হিসেবে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শান্তিপূর্ণ শোকসভাটি দ্রুত রাজনৈতিক বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদত্যাগ দাবি করে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
সহিংসতা ও সংঘর্ষের চিত্র বার্তা সংস্থা এএফপি ও ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, তেহরানের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকার সমর্থকদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ চলছে। মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারীকে প্রতিহত করতে দেখা গেছে স্যুট পরিহিত কিছু ব্যক্তিকে। দুপক্ষই বিক্ষোভে নিহতদের ছবি হাতে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন।
হতাহতের ভয়াবহ পরিসংখ্যান গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ইরান সরকার তিন হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও তারা একে ‘শত্রুদের উসকানিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) দাবি করেছে, বিক্ষোভে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও মার্কিন চাপ এমন সময় এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা শুরু হয়েছে যখন পারমাণবিক চুক্তি ইস্যুতে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর ভূমিকার সমালোচনা করে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় দিক থেকেই এখন চরম চাপে রয়েছে ইরান প্রশাসন।