• রাজনীতি
  • জনগণের টাকার পাই-পাই হিসাব দেবেন ব্যারিস্টার আরমান: ঢাকা-১৪ আসনে স্বচ্ছতা ও চাঁদাবাজমুক্ত স্মার্ট রাজনীতির নতুন দিগন্ত

জনগণের টাকার পাই-পাই হিসাব দেবেন ব্যারিস্টার আরমান: ঢাকা-১৪ আসনে স্বচ্ছতা ও চাঁদাবাজমুক্ত স্মার্ট রাজনীতির নতুন দিগন্ত

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জনগণের টাকার পাই-পাই হিসাব দেবেন ব্যারিস্টার আরমান: ঢাকা-১৪ আসনে স্বচ্ছতা ও চাঁদাবাজমুক্ত স্মার্ট রাজনীতির নতুন দিগন্ত

সরকারি বরাদ্দের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে প্রতি ছয় মাস অন্তর ‘গণশুনানি’র ঘোষণা দিলেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম; এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে জিরো টলারেন্সের হুঁশিয়ারি।

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন ঢাকা-১৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান)। সরকারি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি পয়সার হিসাব জনগণের সামনে পেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রতি ছয় মাস অন্তর ‘গণশুনানি’ বা ‘Public Hearing’-এর মাধ্যমে তিনি ভোটার ও সাধারণ মানুষের কাছে নিজের কাজের কৈফিয়ত দেবেন, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জবাবদিহিতার নতুন সংস্কৃতি: ছয় মাস অন্তর গণশুনানি শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আরমান তার এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সরকারি বরাদ্দ মানেই জনগণের আমানত। তার ভাষায়, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে (Development Projects) কত টাকা বরাদ্দ আসছে এবং তা কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা জানার পূর্ণ অধিকার এই আসনের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমি প্রতি ছয় মাস অন্তর আপনাদের মুখোমুখি হবো এবং ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দেব।” এই ‘Financial Transparency’ বা আর্থিক স্বচ্ছতার অঙ্গীকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঢাকা-১৪ হবে ‘চাঁদাবাজমুক্ত’ জোন এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বস্তি ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এই তরুণ সংসদ সদস্য। অনুষ্ঠান থেকেই তিনি ঢাকা-১৪ আসনকে আজ থেকে ‘চাঁদাবাজমুক্ত’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেন। ব্যারিস্টার আরমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা ‘Extortion’ বরদাশত করা হবে না। যারা সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খাওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” চাঁদাবাজদের দমনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

দল-মতের ঊর্ধ্বে জনসেবার অঙ্গীকার রাজনীতিতে বিভাজনের দেয়াল ভেঙে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ‘Inclusive’ সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যারিস্টার আরমান। তিনি বলেন, “কে কোন দলের অনুসারী বা কার রাজনৈতিক মতাদর্শ কী, সেটি আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা এখানে মানুষের সেবা করতে এসেছি। দল-মত নির্বিশেষে এই আসনের প্রতিটি দুয়ার সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।” তার এই বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতির এক নতুন বার্তা পৌঁছেছে।

সুশাসন ও আধুনিকায়ন উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার আরমানের এই উদ্যোগ ‘Good Governance’ বা সুশাসনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে তিনি সংসদীয় এলাকায় আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান। ইফতার মাহফিলে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার এই ‘Action Plan’-কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যদি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়, তবে ঢাকা-১৪ আসনটি হবে ঢাকার অন্যতম নিরাপদ ও আধুনিক জনপদ।

ব্যারিস্টার আরমানের এই সাহসী ও সময়োপযোগী ঘোষণা দেশের অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছে সচেতন মহল।