পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত সহায়ক। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার ফলে শরীরের 'Metabolism' বা বিপাক প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, যা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ বা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে যাদের নিয়মিত বিভিন্ন অসুখের জন্য ওষুধ সেবন করতে হয়, রোজার সময় তাদের ওষুধের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে থাইরয়েড, হাই ব্লাড প্রেশার কিংবা দীর্ঘমেয়াদী গ্যাসের সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য ওষুধের সঠিক সময় নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।
গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির ওষুধ: কখন বেশি কার্যকর?
সাধারণত ‘Peptic Ulcer’ বা এসিডিটির সমস্যার জন্য চিকিৎসকরা তিন ধরনের ওষুধ দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘Omeprazole’ বা পিপিআই জাতীয় ওষুধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ওষুধগুলো সাধারণত খাবারের আগে গ্রহণ করতে হয়। রমজানে ইফতারের শুরুতে সামান্য পানি দিয়ে এই ওষুধ খেয়ে ১০-১৫ মিনিট পর মূল খাবার গ্রহণ করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে কিছু আধুনিক ব্র্যান্ডের ওষুধ রয়েছে যা খাবারের আগে বা পরে—যেকোনো সময় খাওয়া যায়।
অন্যদিকে, যাদের হঠাৎ বুক জ্বালাপোড়া শুরু হয়, তারা ‘Antacid’ জাতীয় সিরাপ বা বড়ি সেবন করতে পারেন। এটি তাৎক্ষণিক উপশম দেয় এবং ইফতার বা সেহরির যেকোনো সময় প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করা সম্ভব।
উচ্চ রক্তচাপ ও ডাইউরেটিকস ওষুধের সমন্বয়
যাদের ‘Blood Pressure’ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, রোজার সময় তাদের ‘Long-acting Drugs’ বা দীর্ঘক্ষণ কার্যকর থাকে এমন ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এতে করে দিনের বেলা রক্তচাপ ওঠানামা করার ঝুঁকি কমে।
তবে ওষুধের মধ্যে যদি ‘Diuretics’ থাকে (যা প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়), তবে তা সেহরির সময় সেবন করা নিয়ে চিকিৎসকদের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। সাধারণত এটি সেহরির সময় দেওয়া হয় যাতে রাতের ঘুম বিঘ্নিত না হয়। তবে এক্ষেত্রে শরীরে ‘Dehydration’ বা পানি শূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে এবং ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
থাইরয়েডের ওষুধ ও সময় ব্যবস্থাপনা
যাদের হাইপোথাইরয়েডিজম রয়েছে, তাদের ‘Anti-thyroid’ ওষুধগুলো সাধারণত খালি পেটে সেবন করতে হয়। খালি পেটে না খেলে এই ওষুধের ‘Absorption’ বা শোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। রমজানে এই ওষুধের সঠিক নিয়ম হলো—সেহরির জন্য যখন ঘুম থেকে ওঠা হয়, তখনই ওষুধটি খেয়ে নেওয়া। ওষুধ সেবনের অন্তত ৩০ মিনিট পর সেহরি গ্রহণ করলে এর কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া বিকল্প হিসেবে ইফতারের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা পর, যখন পাকস্থলী অনেকটা খালি থাকে, তখনও এই ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও সতর্কতা
রমজানে ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ‘Monitoring’ ছাড়া ওষুধের ডোজ কমানো বা বাড়ানো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে ‘Dose adjustment’ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই রোজা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে একটি ‘Medication Schedule’ তৈরি করে নেওয়া উচিত।
মনে রাখবেন, রোজা রাখলে ওষুধের নিয়ম বদলে গেলেও তার গুরুত্ব কমে না। সঠিক নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন করলে সুস্থ থেকে পবিত্র রমজানের ইবাদত সম্পন্ন করা সম্ভব।