রমজানের আত্মশুদ্ধির এই মাসে রোজা পালনের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। অনিচ্ছাকৃত বা আকস্মিক বমি হলে রোজার ওপর তার প্রভাব কেমন হবে, সে সম্পর্কে ইসলামি ফকিহগণ হাদিসের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোজার বিধান ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোজা রাখা অবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়, তবে তার রোজা ভাঙবে না। বমির পরিমাণ কম হোক বা বেশি, তা যদি এমনিতেই বেরিয়ে আসে তবে রোজা নষ্ট হয় না। কারণ রোজা হলো মূলত পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম, আর বমির মাধ্যমে শরীর থেকে কিছু বেরিয়ে যায়, ভেতরে প্রবেশ করে না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোজা কাজা করার প্রয়োজন নেই (তিরমিজি, হাদিস: ৭২০)।
ইচ্ছাকৃত বমি করলে করণীয় যদি কেউ ইচ্ছা করে মুখভর্তি বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে ওই রোজার পরিবর্তে পরবর্তীতে কেবল একটি ‘কাজা’ আদায় করতে হবে। তবে বমি মুখে আসার পর যদি কেউ তা গিলে ফেলে, তবে রোজা ভেঙে যাবে এবং এ অবস্থায় কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হতে পারে।
অসুস্থতা ও দুর্বলতায় রোজা পালন বমি হওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন এবং রোজা চালিয়ে যেতে সক্ষম না হন, তবে তিনি রোজা ভেঙে ফেলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অসুস্থতার কারণে রোজা ছাড়লে পরবর্তীতে কেবল কাজা আদায় করলেই চলবে, কাফফারা প্রয়োজন হবে না।
অজ্ঞান হওয়া বা বেহুশ হলে কি রোজা ভাঙে? রোজার ক্লান্তি বা অন্য কোনো কারণে কেউ যদি সাময়িকভাবে অজ্ঞান বা বেহুশ হয়ে পড়েন, তবে তার রোজা ভাঙবে না। তবে অজ্ঞান অবস্থায় যদি তাকে ওষুধ বা পানি পান করানো হয়, তবে ওই দিনের রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে তার কাজা আদায় করতে হবে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, শরিয়তের ছোট ছোট মাসয়ালাগুলো সঠিকভাবে জানা থাকলে ইবাদত পালন সহজ ও ত্রুটিমুক্ত হয়। তাই রোজা অবস্থায় যেকোনো জটিলতায় বিচলিত না হয়ে সঠিক ধর্মীয় নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।