• জীবনযাপন
  • ‘মিনি স্ট্রোক’ হতে পারে বড় বিপদের পূর্বাভাস: অবহেলা করলেই বাড়বে বড় ধরনের ঝুঁকি

‘মিনি স্ট্রোক’ হতে পারে বড় বিপদের পূর্বাভাস: অবহেলা করলেই বাড়বে বড় ধরনের ঝুঁকি

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
‘মিনি স্ট্রোক’ হতে পারে বড় বিপদের পূর্বাভাস: অবহেলা করলেই বাড়বে বড় ধরনের ঝুঁকি

মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের সাময়িক বিঘ্ন ঘটা এই নীরব ঘাতকটি বড় কোনো ব্রেন স্ট্রোকের আগে প্রকৃতির শেষ সতর্কবার্তা; এর লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ট্রানজিয়েন্ট ইশকেমিক অ্যাটাক’ বা TIA, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘মিনি স্ট্রোক’ হিসেবে পরিচিত। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে মস্তিষ্কের একটি অংশে রক্ত সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এর লক্ষণগুলো কয়েক মিনিট বা ঘণ্টাখানেক স্থায়ী হয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবুও চিকিৎসকরা একে বড় ধরনের স্ট্রোকের আগাম সংকেত বা ‘Warning Sign’ হিসেবে বিবেচনা করেন। এই ছোট সমস্যাটিকে অবহেলা করলে পরবর্তীতে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মিনি স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণসমূহ

মিনি স্ট্রোকের লক্ষণগুলো খুব দ্রুত প্রকট হয় এবং সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মিলিয়ে যায়। তবে লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা জরুরি। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

১. মুখমণ্ডলের পরিবর্তন: হঠাৎ করে মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া বা হাসতে গেলে মুখের একপাশ ঝুলে পড়া। ২. পেশির দুর্বলতা বা অবশ ভাব: শরীরের একপাশের হাত বা পা হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া অথবা কোনো শক্তি না পাওয়া। অনেক সময় হাত থেকে জিনিস পড়ে যেতে পারে। ৩. কথা বলায় অসংলগ্নতা: কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে না পারা। এমনকি অন্যের সহজ কথা বুঝতেও অসুবিধা হওয়া। ৪. দৃষ্টিশক্তির সমস্যা: হঠাৎ করে এক চোখে বা দুই চোখেই ঝাপসা দেখা কিংবা সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা। ৫. ভারসাম্য হারানো: মাথা ঘোরানো এবং শরীরের ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হওয়া। হাঁটতে গেলে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়া। ৬. তীব্র মাথাব্যথা: কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে অসহ্য মাথাব্যথা অনুভূত হওয়া।

কেন হয় এই মিনি স্ট্রোক?

মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনকারী ধমনিতে যখন চর্বি বা ছোট কোনো রক্তপিণ্ড (Blood Clot) সাময়িকভাবে বাধা সৃষ্টি করে, তখনই মিনি স্ট্রোক ঘটে। এই বাধাটি সরে গেলেই রোগী সুস্থ বোধ করেন। তবে এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে রোগীর রক্তনালীতে সমস্যা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় কোনো ‘Medical Emergency’ তৈরি করতে পারে।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন?

মিনি স্ট্রোকের ঝুঁকি সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। জীবনযাত্রা এবং শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে অনেকে উচ্চঝুঁকিতে থাকেন:

উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure): এটি স্ট্রোকের প্রধান কারণ।

ডায়াবেটিস: অনিয়ন্ত্রিত সুগার রক্তনালীর ক্ষতি করে।

কোলেস্টেরল: রক্তে অতিরিক্ত চর্বি ধমনিতে বাধা সৃষ্টি করে।

ধূমপান ও মদ্যপান: এই অভ্যাসগুলো সরাসরি স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

হৃদরোগ: হার্টের কোনো সমস্যা থাকলে সেখান থেকে রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে চলে যেতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন (Obesity): শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং বাড়তি ওজন রক্তসঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায়।

প্রতিরোধের উপায় ও করণীয়

মিনি স্ট্রোককে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা (যেমন: MRI বা CT Scan) করানো জরুরি। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম ডায়েট অনুসরণ এবং লবন ও চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিস নিয়মিত ‘Monitoring’ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা জীবন রক্ষাকারী হতে পারে। মনে রাখবেন, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বড় ধরনের স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Tags: blood pressure medical emergency health alert brain health stroke prevention stroke symptoms mini stroke tia signs