রংপুরের পীরগঞ্জে এক আবেগঘন পরিবেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সাক্ষাতের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন তাঁর মনের লালিত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আগামীর বাংলাদেশে তারেক রহমানকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তিনি।
বিপ্লবের সূতিকাগারে আবেগঘন মুহূর্ত
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি প্রথমে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। এরপর তিনি সাঈদের শোকাতুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন।
বিএনপি প্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে শহীদ পরিবারের পাশে অবস্থান করে তারেক রহমান তাঁদের প্রতি সমবেদনা ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাবার চোখে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তাঁর আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। আমার বিশ্বাস, তাঁর নেতৃত্বে দেশে প্রকৃত ন্যায়বিচার (Justice) প্রতিষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা যে স্বপ্ন নিয়ে রক্ত দিয়েছেন, একটি উন্নত ও বৈষম্যমুক্ত (Discrimination-free) বাংলাদেশ গড়ার সেই লক্ষ্য পূরণ হতে পারে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। তাঁর মতে, দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নতুন এই নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
স্মৃতিতে অম্লান আবু সাঈদ
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ। ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর বুক পেতে দেওয়ার সেই দৃশ্যটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়। তাঁর আত্মত্যাগ সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে এক অভূতপূর্ব জাগরণের পথে ধাবিত করেছিল, যা পরবর্তীকালে একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটায়।
তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল রাজনৈতিক সৌজন্য হিসেবে নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের আদর্শের প্রতি সংহতি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে আসা এই সমর্থন আগামী দিনের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।