মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) আওতাধীন স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা বকেয়া উৎসব ভাতার (Arrears of Festival Allowance) জট অবশেষে খুলছে। মাউশির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষকরা এখন থেকে তাদের বকেয়া পাওনা দাবির প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে পারবেন।
ইএমআইএস পোর্টালে বিশেষ আপডেট
মাউশির সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ইএমআইএস (EMIS Portal)-এ ‘ইএফটি বিল সাবমিট’ (EFT Bill Submit) অপশনটি পুনরায় সচল করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এই অপশনটি বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষক তাদের প্রাপ্য উৎসব ভাতা ও অন্যান্য বকেয়া বিল দাখিল করতে পারছিলেন না। বর্তমানে সিস্টেমটি আপডেট করার পর এটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের জরুরি ভিত্তিতে এই ডিজিটাল উইন্ডো ব্যবহার করে তাদের বকেয়া বিল জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেবল উৎসব ভাতা নয়, মিলবে বকেয়া বেতনও
মাউশির ইএমআইএস সেলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ কেবল উৎসব ভাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ইএফটি (Electronic Fund Transfer) জটিলতার কারণে এক বা একাধিক মাসের মূল বেতন (MPO) পাননি। এখন সেই বকেয়া বেতন আদায়ের জন্যও আবেদন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মূলত ডাটাবেজ আপডেট এবং ব্যাংকিং জটিলতার কারণে যারা পেমেন্ট পাননি, তারা এই সুযোগের আওতায় আসবেন।
বিল দাখিলে মানতে হবে যে নিয়ম
বকেয়া পাওনা আদায়ে শিক্ষকদের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কারিগরি ত্রুটি এড়াতে শিক্ষকদের মাসভিত্তিক আলাদা আলাদা বকেয়া বিল সাবমিট করতে হবে। অর্থাৎ, যদি কোনো শিক্ষকের তিন মাসের বেতন এবং একটি উৎসব ভাতা বকেয়া থাকে, তবে তাকে চারটি পৃথক আবেদন বা বিল এন্ট্রি করতে হবে।
মাউশি কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, বিল সাবমিট হওয়ার পর তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই (Data Verification) করা হবে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া মাত্রই বকেয়া অর্থ সরাসরি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (Bank Account) পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং শিক্ষকরা দ্রুত তাদের প্রাপ্য বুঝে পাবেন।
শিক্ষক সংগঠনগুলো মাউশির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, উৎসবের আগে এই বকেয়া অর্থ হাতে পেলে শিক্ষকদের আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।