• খেলা
  • ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ ও রাশিয়াপ্রীতি: বিশ্বজুড়ে চলা তুমুল সমালোচনার মুখে এবার মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ ও রাশিয়াপ্রীতি: বিশ্বজুড়ে চলা তুমুল সমালোচনার মুখে এবার মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

খেলা ১ মিনিট পড়া
ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ ও রাশিয়াপ্রীতি: বিশ্বজুড়ে চলা তুমুল সমালোচনার মুখে এবার মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

ফুটবলকে বয়কট নয়, বরং মিলনের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন ইনফান্তিনো; রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষেও দিলেন জোরালো যুক্তি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা পিস অ্যাওয়ার্ড’ বা শান্তি পুরস্কার প্রদান এবং রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত—এই দুই ইস্যুতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বইছে সমালোচনার ঝড়। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে এবার সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ফিফা বিশ্বকাপের ‘বয়কট’ সংস্কৃতি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন ফিফা প্রধান।

শান্তি পুরস্কার ও ট্রাম্প বিতর্ক

গত বছরের ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। সেই জমকালো মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ফিফা শান্তি পুরস্কার তুলে দেন ইনফান্তিনো। ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক নীতি ও নানা কর্মকাণ্ডের কারণে শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন ফুটবল সমর্থক ও মানবাধিকার কর্মীদের একটি বড় অংশ। অনেকের মতেই, ট্রাম্পের মতো একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া ফিফার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

‘কেন কেবল ফুটবলকে বয়কট?’—ইনফান্তিনোর প্রশ্ন

ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কিছু দেশ ও সমর্থকগোষ্ঠী ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের (Boycott) ডাক দিয়েছিল। তবে এই ধরনের প্রতিবাদের সঙ্গে একেবারেই একমত নন ফিফা প্রধান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) স্কাই নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, “বিশ্বের যেখানে কোনো বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বয়কটের ডাক নেই, সেখানে কেবল ফুটবলকে কেন বলির পাঁঠা বানানো হবে? বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভক্ত। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবলই হতে পারে একমাত্র মাধ্যম যা মানুষকে আবার এক সুতোয় গেঁথে দেবে।” তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও ফুটবলকে একটি ‘ইউনিফায়িং ফোর্স’ (Unifying Force) হিসেবে দেখা উচিত।

রাশিয়াকে ফেরানোর তোড়জোড়: নতুন বিতর্কের জন্ম

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইস্যুর চেয়েও বড় এক বোমা ফাটিয়েছেন ইনফান্তিনো। তিনি জানান, রাশিয়াকে আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে (International Football) ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ফিফা। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে রাশিয়ার ওপর ফিফা ও উয়েফার কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা ‘স্যাংশন’ (Sanction) জারি রয়েছে।

ইনফান্তিনোর দাবি, এই দীর্ঘকালীন নিষেধাজ্ঞা ফুটবল বিশ্বের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। তিনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই রাশিয়াকে ফিরিয়ে আনার পথ খুঁজতে হবে। দীর্ঘদিনের এই বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা কেবল ঘৃণা এবং হতাশা বাড়িয়েছে। আমরা যদি রাশিয়ার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ইউরোপের মাঠে ফুটবল খেলার সুযোগ করে দিই, তবে সেটিই হবে শান্তির প্রকৃত পথ। ফুটবল কোনো বিভেদ নয়, বরং সংযোগের ভাষা হওয়া উচিত।”

গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাসি ও ফিফার অবস্থান

ইনফান্তিনোর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ যখন এখনো চলমান, তখন রাশিয়াকে বিশ্বমঞ্চে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব ইউক্রেনীয়দের প্রতি অবিচার। অন্যদিকে, ইনফান্তিনো তার ‘ফুটবল ফর পিস’ বা শান্তির জন্য ফুটবল ধারণাকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর। তার মতে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে অ্যাথলেট বা ফুটবলারদের শাস্তি দেওয়া কোনো সমাধান নয়।

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইনফান্তিনোর এই নমনীয় মনোভাব এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ফুটবল বিশ্বের ‘গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাসি’ (Global Diplomacy) বা বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার বিষয়, রাশিয়ার ফুটবল প্রত্যাবর্তনের এই প্রস্তাব উয়েফা বা অন্যান্য সদস্য দেশগুলো কীভাবে গ্রহণ করে।

Tags: donald trump football news world cup fifa president gianni infantino global diplomacy peace award russia football boycott calls international sports