ফুটবল বিশ্বে ফের এক মহাবিস্ফোরণ ঘটতে যাচ্ছে। ইন্টার মিয়ামির মায়াবি আবহ ছেড়ে লিওনেল মেসি কি তবে পাড়ি জমাচ্ছেন তুরস্কে? সম্প্রতি এমনই এক চমকপ্রদ দলবদলের গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে, যা শুনে চমকে উঠেছেন ফুটবল প্রেমীরা। তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব গালাতাসারাইতে (Galatasaray) যোগ দিতে মেসি নাকি সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছেন। তবে এই দলবদলের পেছনে জুড়ে দিয়েছেন এক অভাবনীয় শর্ত—‘প্রতিপক্ষের মাঠে কোনো ম্যাচ নয়’।
আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা ২০২৮ সাল পর্যন্ত এমএলএস (MLS) ক্লাব ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও তার মূল লক্ষ্য এখন ২০২৬ বিশ্বকাপ। আর সেই মেগা ইভেন্টের আগে নিজেকে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের মধ্যে রাখতেই স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে ইউরোপে ফেরার এই নাটকীয় পরিকল্পনা।
১২ ম্যাচের সংক্ষিপ্ত মিশন ও ইস্তাম্বুল শর্ত তুরস্কের স্বনামধন্য ফুটবল বিশ্লেষক লেভেন্ট তুজেমান একটি স্পোর্টস চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, গালাতাসারাই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে মেসির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। আটবারের ব্যালন ডি’অর (Ballon d'Or) জয়ী এই ফুটবলার নাকি চার মাসের এক চুক্তিতে তুর্কি জায়ান্টদের হয়ে খেলতে রাজি হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি কেবল ১২টি ম্যাচ খেলবেন।
তবে মেসির শর্তটি বেশ বৈচিত্র্যময়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গালাতাসারাইয়ের ঘরের মাঠ অর্থাৎ ইস্তাম্বুলের ‘র্যামস পার্ক’ (Rams Park) ছাড়া অন্য কোনো স্টেডিয়ামে বা অ্যাওয়ে (Away Match) ম্যাচে তিনি মাঠে নামবেন না। তুরস্কে তার উপস্থিতি যে নিরাপত্তা এবং উন্মাদনার ঝড় তুলবে, সম্ভবত সেই চাপ এবং ক্লান্তি এড়াতেই এমন অদ্ভুত কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
কেন তুরস্ককে বেছে নিচ্ছেন মেসি? তুজেমানের দাবি অনুযায়ী, মেসি নিজেই মনে করছেন আমেরিকান লিগের গতির চেয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের তীব্রতা তার জন্য বিশ্বকাপের আগে বেশি জরুরি। এমএলএস-এর মরসুম শেষ হওয়ার পর যে দীর্ঘ বিরতি থাকে, সেটি তার ফিটনেস (Fitness) এবং রিদমে প্রভাব ফেলতে পারে।
তুজেমান বলেন, “ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মেসি আল-হিলালের বিশাল প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও গালাতাসারাই নিয়ে আগ্রহী। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকান লিগের বর্তমান পেস তার জন্য ‘ভারী’ হয়ে যাচ্ছে এবং তিনি কোনো চোট (Injury) নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে চান না।”
এমএলএস কি মেসির জন্য ‘প্লে-স্টেশন’ খেলা? মেসির এই সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাবেক ফুটবলার টেরি ফেলান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মেসির জন্য সবকিছু এখন বড্ড সহজ হয়ে গেছে। ফেলান বলেন, “মেসির পরিসংখ্যান বা ভিডিও দেখলে মনে হয় তিনি ‘প্লে-স্টেশন’ (PlayStation) গেম খেলছেন। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল বলতে যা বোঝায়, ইন্টার মিয়ামিতে তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিততে হলে তাকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।”
ফেলানের মতে, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য মেসির টাকার প্রয়োজন নেই। তাই নিজেকে ঝালিয়ে নিতে ইউরোপের যেকোনো শীর্ষ ক্লাবে কয়েক মাস খেলা তার জন্য আদর্শ হতে পারে।
মিশনে ২০২৬ বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক মাইলফলক লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনায় তিনিই মধ্যমণি। আগামী বিশ্বকাপে মাঠে নামলে তার আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে, যা হবে ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় কীর্তি। তাই বিশ্বকাপের আগে কোনো ‘বোঝা’ না হয়ে বরং দলের মূল কাণ্ডারি হিসেবে থাকতে চান মেসি।
গালাতাসারাইয়ের হয়ে এই ১২ ম্যাচের মিশন সফল হলে এটি হবে ইউরোপীয় ফুটবলে মেসির এক রাজকীয় এবং সংক্ষিপ্ত প্রত্যাবর্তন। এখন দেখার বিষয়, তুর্কি ফুটবল ফেডারেশন এবং ক্লাব ম্যানেজমেন্ট মহাতারকার এই ‘হোম ম্যাচ অনলি’ শর্ত মেনে নিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা চমকটি উপহার দেয় কি না।