জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনের ক্যারিয়ারে আবারও চোটের কালো মেঘ। হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোটে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন এই তারকা শট-স্টপার (Shot-stopper)। এই ইনজুরি কেবল তাঁর বর্তমান ক্লাব জিরোনার জন্যই নয়, বরং আসন্ন বিশ্বকাপে জার্মানির জাতীয় দলের পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, তাঁর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
ম্যাচ চলাকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ওভিয়েদোর বিপক্ষে জিরোনার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। ম্যাচের এক পর্যায়ে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে তীব্র টান অনুভব করলে তিনি যন্ত্রণায় নুইয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে, খেলা শেষ করার আগেই তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর চোখে-মুখে থাকা হতাশার ছাপই বলে দিচ্ছিল, চোটের গভীরতা কতটা বেশি হতে পারে।
অস্ত্রোপচারের শঙ্কা ও দীর্ঘ পুনর্বাসন ক্রীড়াভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন (ESPN)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টের স্টেগেনের এই চোট সারিয়ে তুলতে অস্ত্রোপচার বা Surgery-র প্রয়োজন হতে পারে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলছে, অন্তত দুই মাস বা তারও বেশি সময় তাঁকে মাঠের বাইরে কাটাতে হবে। বর্তমানে বার্সেলোনা এবং জিরোনা—উভয় ক্লাবের মেডিকেল টিম তাঁর চোটের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁর পুনর্বাসন বা Rehabilitation প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে এবং মাঠে ফিরতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বিশ্বকাপ স্বপ্ন ও জিরোনায় পাড়ি দেওয়ার নেপথ্য কাহিনী আসন্ন বিশ্বকাপে জার্মানি জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতেই জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে বার্সেলোনা থেকে ধারে (Loan) জিরোনায় যোগ দিয়েছিলেন টের স্টেগেন। মূল লক্ষ্য ছিল নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের ম্যাচ ফিটনেস (Match Fitness) ও ফর্মের প্রমাণ দেওয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই লক্ষ্য পূরণের পথেই এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ইনজুরি। জার্মানির কোচের নজরে থাকতে হলে বৈশ্বিক আসরের আগে তাঁকে কেবল ফিট হলেই চলবে না, বরং ক্লাব ফুটবলে নিজের সেরা ছন্দও ফিরে পেতে হবে।
বার্সেলোনা ও হান্সি ফ্লিকের প্রতিক্রিয়া টের স্টেগেনের চোটের খবর পৌঁছানো মাত্রই তাঁর মূল ক্লাব বার্সেলোনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, “খবরটা শোনার পর থেকে আমার খুব খারাপ লাগছে। যদিও তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা হয়নি, তবে আমরা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। এরপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ফ্লিক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্টেগেন একাধিকবার চোটে পড়েছেন, যার ফলে বার্সেলোনার একাদশে তরুণ হোয়ান গার্সিয়ার কাছে নিজের জায়গা হারিয়েছিলেন তিনি।
চোটের পুরনো ইতিহাস ও আগামীর লড়াই টের স্টেগেনের জন্য চোটের সঙ্গে লড়াই নতুন কিছু নয়। গত মৌসুমে হাঁটুর ইনজুরির কারণে তিনি সব মিলিয়ে মাত্র ৯টি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন। এরপর পিঠের অস্ত্রোপচারের কারণে চলতি মৌসুমের প্রথম চার মাসও তাঁকে মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। বারবার ফিরে আসার লড়াইয়ে জয়ী হলেও এবারের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি তাঁকে মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের দামামা বাজতে খুব বেশি দেরি নেই। এমতাবস্থায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টের স্টেগেন নিজেকে কত দ্রুত ফিট করে তুলতে পারেন এবং জার্মানির একাদশে নিজের হারানো জায়গা পুনরুদ্ধার করতে পারেন কিনা, সেটিই এখন বিশ্ব ফুটবলের বড় প্রশ্ন।