লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে বড় ধরনের নির্বাচনী জালিয়াতির পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। ১৬ ঘর বিশিষ্ট ব্যালট পেপারে ব্যবহারের উপযোগী ৬টি নকল নির্বাচনী সিলসহ সোহেল রানা নামের এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পৌর শহরের পুরাতন আদালত রোডের ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান
পুলিশ জানায়, একটি গোপন সূত্রে খবর আসে যে, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে ব্যালট পেপারে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের সিল তৈরি করা হচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশের একটি দল মারইয়াম প্রিন্টার্সে অভিযান চালায়। এ সময় দোকান থেকে সদ্য প্রস্তুতকৃত ৬টি নির্বাচনী সিল উদ্ধার করা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মাহমুদ নাহিদ। অভিযানে সীলগুলোর পাশাপাশি জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতের পরিচয় ও প্রাথমিক ভাষ্য
গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মারইয়াম প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল স্বীকার করেছেন যে, জনৈক গ্রাহকের অর্ডার পেয়ে তিনি এই সিলগুলো তৈরি করেছিলেন। তবে নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতার ভয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সিল অর্ডার দেওয়া ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি।
নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধনের গুঞ্জন
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ব্যক্তি এই সিলগুলো তৈরির অর্ডার দিয়েছিলেন। পুলিশ এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে সোহেলের জব্দকৃত মোবাইল ফোনের কল লিস্ট এবং ডাটা বিশ্লেষণ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন কোনো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের ‘Ballot Rigging’ বা ভোট কারচুপির উদ্দেশ্যেই এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মাহমুদ নাহিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সরকারি অনুমতি ব্যতীত কোনো বাণিজ্যিক প্রেসে বা ছাপাখানায় ব্যালট পেপার বা নির্বাচনী সরঞ্জাম তৈরি করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি অপচেষ্টা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা একজনকে গ্রেফতার করেছি এবং ডিজিটাল আলামত জব্দ করেছি। এই চক্রের পেছনে অন্য কার কার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে বিশেষ অভিযান চলছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বা জালিয়াতির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”
গ্রেফতারকৃত সোহেল রানার বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই ঘটনার পর শহরের অন্যান্য ছাপাখানাগুলোতেও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।