• প্রযুক্তি
  • দীর্ঘ ৫৪ বছরের অপেক্ষার অবসান: আবারও চাঁদের পথে মানুষ, নাসার ‘আর্টেমিস-টু’ মিশনের ঐতিহাসিক মহাযাত্রা

দীর্ঘ ৫৪ বছরের অপেক্ষার অবসান: আবারও চাঁদের পথে মানুষ, নাসার ‘আর্টেমিস-টু’ মিশনের ঐতিহাসিক মহাযাত্রা

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
দীর্ঘ ৫৪ বছরের অপেক্ষার অবসান: আবারও চাঁদের পথে মানুষ, নাসার ‘আর্টেমিস-টু’ মিশনের ঐতিহাসিক মহাযাত্রা

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ৪ মহাকাশচারী নিয়ে উড়বে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট; মহাকাশের দূরতম সীমানা ছোঁয়ার প্রস্তুতিতে মুখিয়ে আছে বিশ্ব।

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে চাঁদের বুকে মানুষের কোনো পদচিহ্ন পড়েনি। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) তাদের ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পের আওতায় পুনরায় চন্দ্রাভিযানে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘আর্টেমিস-টু’ (Artemis II) মিশনে চারজন মহাকাশচারী পাড়ি জমাবেন মহাকাশের অতল গভীরে।

অর্ধশতকের বিরতি ও নাসার উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট নাসার এই মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ‘আর্টেমিস মুন মিশন’ মূলত চাঁদে মানুষের স্থায়ী বসতি স্থাপনের প্রথম ধাপ। ২০২২ সালে ‘আর্টেমিস ওয়ান’ মিশনে কোনো মানুষ ছাড়াই সফলভাবে একটি রকেট চাঁদে পাঠিয়ে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করেছিল নাসা। তবে এবারের মিশনটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং চ্যালেঞ্জিং। মানব ইতিহাসের আগের সব রেকর্ড ভেঙে মহাকাশের সবচেয়ে দূরতম সীমানায় পৌঁছাবে নাসার তৈরি এ যাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (Space Launch System)।

মিশনের লক্ষ্য: স্থায়ী উপস্থিতির পথে প্রথম কদম আর্টেমিস মিশন-টু’র ম্যানেজমেন্ট টিম চেয়ারম্যান জন হানিকাট এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “মহাকাশচারীদের নিয়ে এই চন্দ্রভ্রমণটি হবে চাঁদে স্থায়ীভাবে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিতে আমাদের প্রথম বড় পদক্ষেপ।” ১০ দিনের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু জটিল যাত্রায় রকেটের ‘লাইফ সাপোর্ট’ (Life Support) এবং ‘ন্যাভিগেশন সিস্টেম’ (Navigation System) মহাকাশের চরম প্রতিকূল পরিবেশে কতটা কার্যকর থাকে, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মূলত এই মিশনের সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী ‘আর্টেমিস-থ্রি’ মিশনে চাঁদের বুকে মানুষের চূড়ান্ত অবতরণ।

অভিযাত্রী দল: ইতিহাস গড়ার কারিগর যারা আর্টেমিস-টু মিশনের নেতৃত্ব দেবেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান। তাঁর সঙ্গে পাইলট হিসেবে থাকছেন ভিক্টর গ্লোভার। বিশেষজ্ঞ হিসেবে এই দলে যোগ দিচ্ছেন ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান অ্যাস্ট্রোনট জেরেমি হ্যানসেন। উল্লেখ্য যে, এই মিশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চন্দ্রাভিযানের অংশ হতে যাচ্ছেন, যা বিশ্বজুড়ে এক বড় ধরনের সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক বার্তা দিচ্ছে। যদিও এই দলটি সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামবে না, তবে উপগ্রহটির কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে প্রয়োজনীয় ডেটা সংগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ ল্যান্ডিং সাইটগুলো পর্যবেক্ষণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।

প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সময়সূচি মহাকাশ গবেষণায় সামান্যতম ত্রুটির কোনো অবকাশ নেই। সম্প্রতি মিশনের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ (Wet Dress Rehearsal)-এ রকেটটিতে তরল হাইড্রোজেন লিকেজ ধরা পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে নাসা তাৎক্ষণিকভাবে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কক্ষপথের জটিল গাণিতিক হিসাব এবং কারিগরি ত্রুটি সংশোধন শেষে আগামী মার্চ মাসে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণটি নির্ধারিত হয়েছে।

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন তাকিয়ে আছে কেনেডি স্পেস সেন্টারের প্যাডের দিকে। আর্টেমিস-টু কেবল একটি রকেট উৎক্ষেপণ নয়, এটি মহাকাশে মানুষের আধিপত্য বিস্তারের নতুন এক লড়াইয়ের সূচনা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহ অভিযানের স্বপ্নকেও বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করবে।

Tags: space exploration space science moon mission sls rocket artemis mission nasa news space launch lunar orbit astronaut crew nasas mission