বিশ্বের অন্যতম টেক জায়ান্ট (Tech Giant) অ্যাপল তাদের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’কে (Siri) ঢেলে সাজানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) মডেল ‘জেমিনি’র (Gemini) সঙ্গে অ্যাপলের সদ্য ঘোষিত ঐতিহাসিক অংশীদারত্বের প্রথম বাস্তব প্রতিফলন দেখা যেতে পারে আগামী মাসেই। ব্লুমবার্গের প্রখ্যাত টেক বিশ্লেষক মার্ক গারম্যানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধেই সিরির নতুন ও শক্তিশালী সংস্করণ উন্মোচন করতে যাচ্ছে অ্যাপল।
ফেব্রুয়ারিতে আসছে প্রথম দফার চমক অ্যাপলের এই নতুন আপডেটের মাধ্যমে সিরি আরও বেশি কার্যকর ও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে। গারম্যান জানিয়েছেন, নতুন সিরি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য এবং আইফোনের স্ক্রিনে বা পর্দায় থাকা কন্টেন্ট বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা পাবে। অর্থাৎ, আপনি স্ক্রিনে কী দেখছেন বা কী নিয়ে কাজ করছেন, তা বুঝতে পেরে সিরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। ২০২৪ সালের জুনে অ্যাপল যে ‘স্মার্টার সিরি’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটি হতে যাচ্ছে তারই প্রথম বাস্তব রূপ।
জুনে পূর্ণাঙ্গ রূপ: ‘চ্যাটজিপিটি’র সঙ্গে টক্কর ফেব্রুয়ারির আপডেটটি কেবল শুরু মাত্র। গারম্যানের তথ্যমতে, আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্স’ (WWDC)-এ সিরির আরও বড় একটি আপগ্রেড ঘোষণা করা হতে পারে। সেই সংস্করণে সিরিকে পুরোপুরি ‘কনভারসেশনাল’ (Conversational) বা কথোপকথনমুখী করা হবে, যা অনেকটা ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটির (ChatGPT) মতো সাবলীল হবে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, সিরির এই উন্নত সংস্করণটি সরাসরি গুগলের ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Cloud Infrastructure) বা ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতে পারে।
অ্যাপল-গুগল ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব ও কৌশল বদল দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের নিজস্ব এআই প্রযুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও গুগলের সঙ্গে এই মিত্রতা প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে অ্যাপলের এআই প্রধান জন জিয়ানান্দ্রিয়ার বিদায়ের পর কোম্পানিটি তাদের অভ্যন্তরীণ এআই কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নিজস্ব মডেল তৈরির পাশাপাশি গুগলের জেমিনি এআই-কে সঙ্গী করে অ্যাপল এখন দ্রুততম সময়ে বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপল ও গুগলের এই যৌথ পদযাত্রা কেবল সিরির সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং মাইক্রোসফট এবং ওপেনএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। আইফোন ব্যবহারকারীরা এখন এমন এক ব্যক্তিগত সহকারীর অপেক্ষায় আছেন, যা কেবল প্রশ্নের উত্তরই দেবে না, বরং মানুষের মতো পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতে সক্ষম হবে।