১৭টি বস্তুর সন্ধান, রহস্যের জট খুলছে না
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় গত কয়েক মাসে অন্তত ১৭টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে এসব খবর প্রকাশিত হলেও, পুলিশ উদ্ধারকৃত আলামতগুলো আসলে বিস্ফোরক কিনা বা জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভুয়া উপকরণ—তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। এসব বস্তু রাস্তার পাশে, ড্রেনের ভেতরে, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের কাছে এবং প্রবাসী পরিবারের বাড়ির দেয়ালে পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও পুলিশের ভূমিকা
প্রতিটি ঘটনার পরই পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে বস্তু উদ্ধার করে। কিন্তু উদ্ধার পরবর্তী তদন্তের অগ্রগতি বা ফলাফল সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য প্রায় একই রকম রয়ে গেছে। স্থানীয়রা এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যদি এগুলো প্রকৃত বিস্ফোরক হয়, তবে সেগুলোর ধরন, ক্ষমতা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক না করা দায়িত্বহীনতা। আর যদি নকল হয়, তবে বারবার একই কৌশলে আতঙ্ক ছড়ানোও গুরুতর অপরাধ, যার পেছনে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা অপরাধী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত অপকৌশল জড়িত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিক ঘটনা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং বা সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না। বিশেষ করে, চাঁদার চিরকুটে উল্লেখ থাকা মোবাইল নম্বরটি আদৌ ট্র্যাক করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেরও কোনো উত্তর মেলেনি।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য
মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান 'কালবেলা'কে জানান, উদ্ধার করার পর বস্তুগুলো পানির মধ্যে চুবিয়ে রাখা হয়েছিল এবং পানিতে রাখার পরও সেগুলো থেকে কিছু বের হয়নি। তাঁর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, এগুলো নকল বলেই মনে হচ্ছে। তবে ঝুঁকি এড়াতে এক্সপার্ট মতামত দেওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে বস্তুগুলো বোমা না বোমা সদৃশ।
গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস শুধু জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এর বাইরে বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অবস্থান জানতে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়ের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাঁর কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার প্রশ্ন
এভাবে একটি এলাকায় একের পর এক বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি হয় একটি সংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কের কাজ, নয়তো পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের সক্ষমতা যাচাইয়ের চেষ্টা। উভয় ক্ষেত্রেই বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ১৭টি ঘটনার পরও এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকাই এখন জেলার মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।