• জাতীয়
  • নির্বাচনের চার দিন বাকি, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি আড়াই লাখ প্রবাসী

নির্বাচনের চার দিন বাকি, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি আড়াই লাখ প্রবাসী

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনের চার দিন বাকি, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি আড়াই লাখ প্রবাসী

নির্বাচনের মাত্র চার দিন বাকি, তবে এখনও ভোট দেননি আড়াই লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৭ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৮ ব্যালট ১২৩ দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে পাঠায়। তার মধ্যে ১২ হাজার ১৭০ ব্যালট ঠিকানা জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে ভোটারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

সেই ব্যালটগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরত এসেছে।

বাকি ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৮টি ব্যালটের মধ্যে ৫ লাখ ১ হাজার ৮৬২ ভোটার শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা ভোট প্রদান করেছেন। বাকি ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৬ জন প্রবাসী ভোটার এখনও তাদের ভোট দেননি। অর্থাৎ প্রতি তিনজনের একজন প্রবাসী ভোটার এখনও ভোট দেননি।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ব্যালটের ভোট ভোটের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাছে পৌঁছাতে হবে। এই সময়ের পর কোনও ব্যালট পৌঁছালে, তা গণনা করা হবে না।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে ২৯ শতাংশ পোস্টাল ভোট

পোস্টাল ভোট বিডি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দেশে ও দেশের বাইরের মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। যার মধ্যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশ ও বিদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৩ জন ভোটার তাদের ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে। যা পোস্টাল ব্যালটে দেওয়া মোট ভোটারের ২৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এসব ভোটের মধ্যে প্রবাসীদের থেকে আসা ৩ লাখ ১১ হাজার ২৫১টি ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে। আর দেশে পোস্টাল ব্যালটে দেওয়া ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯০২টি ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে।

পোস্টাল ব্যালটে গচ্চা ৮৫ লাখ টাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পোস্টাল ভোটের খরচ বাবদ ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ভোট প্রতি নির্বাচন কমিশনের ব্যয় ৭০০ টাকা। এজন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

পোস্টাল ভোট বিডি এর ওয়েবসাইট দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় সরবরাহ করতে না পারায় দেশের বাইরে থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ হাজার ১৭০ ব্যালট বাংলাদেশে ফেরত এসেছে। এক্ষেত্রে ব্যালট প্রতি ৭০০ টাকা খরচ হিসেবে ৮৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা এখন পর্যন্ত গচ্চা যায় ইসির। পরবর্তীতে গচ্চা যাওয়া এই টাকার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণ

নির্বাচন কমিশন এক পরিপত্রের মাধ্যমে জানায়, রিটার্নিং অফিসার ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের খামসমূহ প্রাপ্তির পর তার উপর প্রদত্ত কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে প্রাপ্ত রেকর্ড রাখবেন, যা পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও প্রাপ্তি তালিকা হিসাবে সফ্‌টওয়্যার হতে জেনারেট হবে। সফটওয়্যার হতে জেনারেট করা এই ফরমে রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষর করবেন।

যথাযথ স্বাক্ষরবিহীন ঘোষণাপত্র/ঘোষণাপত্রবিহীন ব্যালটের খাম বাতিল/অবৈধ বলে সংরক্ষণ করবে রিটার্নিং অফিসার। আর যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র সম্বলিত ব্যালটের খামগুলো গণনার জন্য আলাদা বাক্সে সংরক্ষণ করা হবে। যা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার নির্ধারিত বাক্সে সংরক্ষণ করবেন।

পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি গণনা কক্ষ প্রস্তুত করা হবে। পোস্টাল ভোট গণনার সময় প্রার্থী/নির্বাচনি এজেন্ট/প্রার্থীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষকরা অন্যান্য কেন্দ্রের ন্যায় একই নীতিমালা অনুসরণে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ভোট প্রদানের নিমিত্তে ডেভেলপকৃত সফটওয়্যারে লগইন করার পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে/জানতে পারবেন।

যে পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রাপ্ত ব্যালট পেপার গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা

রিটার্নিং অফিসার ব্যালট পেপার সম্বলিত খামগুলো গণনার জন্য বাক্স খুলবেন এবং একের পর এক ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম খুলে ব্যালট পেপার বের করবেন। বৈধ ব্যালট পেপারসমূহ প্রার্থীভিত্তিক আলাদা করবেন এবং তা গণনা করবেন;

যে সমস্ত পোস্টাল ব্যালটে কোনও প্রার্থীর অনুকূলে ভোট প্রদান করা হয়েছে তা সঠিক বোঝা না যায় সেগুলো অবৈধ/বাতিল ব্যালট হিসেবে আলাদা করবেন।

প্রাপ্ত ফলাফল সাধারণ ভোটকেন্দ্রের মতো লিপিবদ্ধ করে এর কপি প্রকাশ করবেন।

পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা অতিক্রান্ত হবার পর যদি কোনও পোস্টাল ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম রিটার্নিং অফিসারের নিকট পৌঁছায়, সেক্ষেত্রে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটসমূহ রিটার্নিং অফিসার/দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রহণের তারিখ ও সময় উল্লেখসহ স্বাক্ষরপূর্বক সংরক্ষণ করবেন এবং এ সংখ্যা প্রকাশ করবেন;

পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা শেষ হলে অন্যান্য সাধারণ কেন্দ্রের মতো পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল ঘোষণা করে সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব ঘোষণা ও অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফলের সাথে একত্রীকরণ করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব একীভূত না করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

পোস্টাল ভোট গণনার বিষয়ে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি) প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালিম আহমেদ খান বলেন, “ভোটের দিন বিকাল সাড়ে চারটা থেকেই পোস্টাল ভোট গণনা শুরু হবে।”

এদিকে, ভোটের ফলাফলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমরা আমাদের দিক থেকে ভোট ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতার পালন করছি। যথাসময়ে এই রেজাল্টটা যাতে হয় সেই ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। অধিকাংশ রেজাল্ট মধ্যরাত্রের মধ্যে এসে যায় বেসরকারিভাবে। এবারও তাই হবে। বড় জোর আপনার শেষ রাত্রের দিকে হবে বা পরের দিন হবে।”

Tags: নির্বাচনের চার দিন বাকি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি আড়াই লাখ প্রবাসী