• জাতীয়
  • রিকুইজিশন আতঙ্কে যানবাহন মালিকরা

রিকুইজিশন আতঙ্কে যানবাহন মালিকরা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
রিকুইজিশন আতঙ্কে যানবাহন মালিকরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রিকুইজিশন করা হচ্ছে। এতে যানবাহন মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

আইন অনুযায়ী যানবাহন রিকুইজিশনের নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, রিকুইজিশন করা গাড়ির জ্বালানি ও স্টাফ খরচ ছাড়াও মালিককে সাধ্যমতো ভাড়া দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিধি মেনে পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্দেশনা দিয়েছে।

দেশে জাতীয় নির্বাচনসহ যেকোনও প্রয়োজনে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ সব ধরনের যানবাহন রিকুইজিশন করা হয়। আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও বিগত একাধিক নির্বাচনে চালক ও মালিকদের জ্বালানি খরচ, টোল এবং চালকদের খাবারের খরচ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজধানীতে প্রায় পাঁচ হাজার যানবাহন রিকুইজিশনের প্রয়োজন হবে। এছাড়া সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বাস রিকুইজিশন করতে হবে। ইতোমধ্যে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বাস মালিক সমিতিগুলোর বৈঠকে এই চাহিদার কথা জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির মুখপাত্র ও দফতর সম্পাদক জুবায়ের মাসুদ বলেন, “ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে সারা দেশে ১০ হাজার বাসের চাহিদার কথা জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ৭ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব বাস রিকুইজিশন করা হবে।”

তিনি বলেন, “পুলিশের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে—রিকুইজিশনকালীন সময়ে বাসের দৈনিক ব্যাংক কিস্তি বাবদ ন্যূনতম দুই হাজার টাকা, জ্বালানি খরচ এবং চালকদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।”

এদিকে, রিকুইজিশনকে কেন্দ্র করে মালিক ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশন করা যায় কিনা তা নিয়েও উদ্বিগ্ন। তবে পুলিশের ভাষ্য, আইন অনুযায়ী যেকোনও ধরনের যানবাহনই রিকুইজিশন করা যায়।

রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-ধামরাই রোডে চলাচলকারী ডি লিঙ্ক পরিবহনের সুপারভাইজার মানিক দেওয়ান জানান, তাদের পরিবহনের ৭৩টি বাসের মধ্যে ৬০টি রিকুইজিশন করা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে রিকুইজিশন শুরু হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাস নেওয়া হবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাখা হবে।

তিনি বলেন, “প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন সব খরচ বাদ দিয়ে মালিকের গড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। রিকুইজিশনের কারণে মালিকরা এই আয় থেকে বঞ্চিত হবেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট অঙ্ক জানানো হয়নি। চালকরা শুধু খাবার পাবেন এবং জ্বালানি পুলিশ সরবরাহ করবে।”

ডি লিঙ্ক পরিবহনের পাশেই ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটে চলাচলকারী শুভযাত্রা পরিবহনের ২০টি বাস রিকুইজিশন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Tags: মালিক যানবাহন রিকুইজিশন আতঙ্কে