• জাতীয়
  • ভোট হবে উৎসবমুখর, লক্ষ্য এখন ‘পারফেক্ট’ নির্বাচন: রাষ্ট্রীয় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কড়া বার্তা

ভোট হবে উৎসবমুখর, লক্ষ্য এখন ‘পারফেক্ট’ নির্বাচন: রাষ্ট্রীয় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কড়া বার্তা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ভোট হবে উৎসবমুখর, লক্ষ্য এখন ‘পারফেক্ট’ নির্বাচন: রাষ্ট্রীয় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কড়া বার্তা

বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের কড়া নজরদারিতে ১২ ফেব্রুয়ারির মহাযজ্ঞ; ১২ কোটির বেশি ভোটারের রায় নিশ্চিতে প্রস্তুতি তুঙ্গে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের আভাস দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক শেষে তিনি তার সন্তুষ্টির কথা জানান। প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ, তবে সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণকে আক্ষরিক অর্থেই ‘পারফেক্ট’ বা নিখুঁত করে তোলা।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে ড. ইউনূসের বার্তা পৌঁছে দেন।

রাজনীতির চিরাচরিত ধারায় বদল: সন্তুষ্ট ড. ইউনূস ড. মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, এবারের নির্বাচনের প্রচারণার ধরন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ইতিবাচক মাইলফলক। তিনি বলেন, “সারা দেশে অত্যন্ত উৎসাহ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চলছে। কেউ কারও বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না, কোনো অভদ্র আচরণ বা সহিংসতা দেখা যাচ্ছে না। এটি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। আমরা এই প্রস্তুতিতে অত্যন্ত সন্তুষ্ট (We are very happy)। তবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো—ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি যাতে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও নিখুঁত হয়।”

প্রযুক্তি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: বডি ওর্ন ক্যামেরার প্রয়োগ নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, সারা দেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্রের মধ্যে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ২৫ হাজার ৭০০টি ‘Body-worn Camera’ নিশ্চিত করা হয়েছে। যমুনার বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে রেন্ডমলি পাঁচটি স্পটে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং নিশ্চিত করা হবে।

‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’: দ্রুত পদক্ষেপের নতুন হাতিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে চালু করা হয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ (Election Security App)। এটি মূলত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিকিউরিটি অফিসারদের জন্য একটি ‘Internal Communication’ টুল হিসেবে কাজ করবে। ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে কোনো ধরনের গোলযোগ বা সংঘর্ষের উপক্রম হলে, এই অ্যাপের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে মুহূর্তের মধ্যে সিগন্যাল পৌঁছে যাবে। ফলে দ্রুততম সময়ে ‘Intervention’ বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বিশ্ববাসীর নজর ও বিশাল কর্মযজ্ঞ এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিমধ্যে ১২৪টি দেশ থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballot) দেশে পৌঁছেছে। এই ব্যালটিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন প্রায় ৪০০ বিদেশি এবং ৫০ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক। তবে স্বচ্ছতার স্বার্থে বিতর্কিত সংস্থা ‘পাশা’-র কার্ড স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব।

আগামী এক সপ্তাহকে অত্যন্ত ‘ক্রুশিয়াল’ বা গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষ পরিবার নিয়ে ভোট উৎসবে শামিল হবেন। বিশেষ করে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই নির্বাচনকে ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

Tags: national election bangladesh politics chief adviser postal ballot dr yunus election security voting app foreign observers perfect election voting challenge