নাটোরের গুরুদাসপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা ও মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, তখনই আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নেয় দুটি প্রাণ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবারের আরও এক সদস্য গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বসতঘর, আসবাবপত্রসহ ৫টি ঘর এবং অন্তত ১২টি গবাদি পশু।
নিস্তব্ধ রাতে আগুনের বীভৎস রূপ ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া বিন্নাবাড়ী এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা মোন্তার হোসেনের বাড়িতে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তেজ বাড়তে থাকে এবং শোবার ঘরে ঘুমিয়ে থাকা সদস্যরা আটকা পড়েন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তেই তা পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের (Fire Service) একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রাণহানি ও আহতের বিবরণ অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসস্তূপ থেকে মোন্তার হোসেনের পুত্রবধূ আতিয়া এবং তাঁর নাতনি রওজার দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্পর্কে তাঁরা মা ও মেয়ে। এই ঘটনায় মোন্তার হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগমও গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাঁর শরীরের অধিকাংশ পুড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (Rajshahi Medical College and Hospital) স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
নিঃস্ব এক পরিবার: গবাদি পশু ও সহায়-সম্বল ছাই অগ্নিকাণ্ডটি কেবল প্রাণহানিই ঘটায়নি, বরং নিমিষেই একটি সাজানো পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনে মোন্তার হোসেনের মুদি দোকানসহ ৫টি ঘর পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়েছে। ঘরের ভেতরে থাকা সব আসবাবপত্র ও মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল গোয়ালে থাকা ১২টি ছাগলের মৃত্যু, যেগুলো আগুনের হাত থেকে বাঁচার কোনো সুযোগই পায়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস ও সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন দিশেহারা মোন্তার হোসেনের স্বজনরা।
আগুনের নেপথ্যে বৈদ্যুতিক ত্রুটি? প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট (Electrical Short Circuit) থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘরের ভেতরে দাহ্য পদার্থ বা আসবাবপত্র থাকায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
শীতের রাতে বা শুষ্ক মৌসুমে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক সতর্কতার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় এক শোকাতুর পরিবেশ বিরাজ করছে।