• রাজনীতি
  • ভোটের অপরাধ ঢাকতেই ‘অন্ধকার পথ’ বেছে নিচ্ছে ইসি: ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে জামায়াত আমিরের তীব্র তোপ

ভোটের অপরাধ ঢাকতেই ‘অন্ধকার পথ’ বেছে নিচ্ছে ইসি: ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে জামায়াত আমিরের তীব্র তোপ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ভোটের অপরাধ ঢাকতেই ‘অন্ধকার পথ’ বেছে নিচ্ছে ইসি: ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে জামায়াত আমিরের তীব্র তোপ

মোহাম্মদপুরের জনসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের হুঁশিয়ারি; মোবাইল নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম দিলেন নাহিদ ইসলাম।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ লগ্নে এসে নির্বাচন কমিশনের (EC) সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনী অনিয়ম ও অপরাধের বৈধতা দিতেই কমিশন এখন ইন্টারনেট বন্ধ বা ‘Internet Shutdown’-এর মতো অন্ধকার পথে হাঁটছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন।

‘চোরাপথে গেলে প্রতিহত করা হবে’: ডা. শফিকুর রহমান জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটি নির্দিষ্ট পক্ষ নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে এখন জনরায়কে অপহরণ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আর তাদের এই অপকর্মের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।” তিনি দাবি করেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের পথে না গিয়ে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কমিশন মূলত অন্ধকার পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভয় পেয়ে যারা জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কারচুপি করতে চোরাপথ খুঁজছেন, ছাত্র-জনতা তাদের সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”

কমিশন ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম নাহিদ ইসলামের একই সভায় জাতীয় নাগরিক কমিটির (NCP) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দেন। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিকে (Notification) কেন্দ্র করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। অথচ কমিশন ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করে তথ্য গোপন করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আজ সন্ধ্যার মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার না করলে আগামীকাল আমরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করতে বাধ্য হব।” তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তকে জনগণের তথ্যের অধিকার বা ‘Right to Information’ এর পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

মোহাম্মদপুরকে সন্ত্রাসমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি মামুনুল হকের ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সভাপতির বক্তব্যে নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় সমস্যার দিকে আলোকপাত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই আসনে একটি রাজনৈতিক দল একজন কুখ্যাত ‘অস্ত্র ব্যবসায়ী’কে মনোনয়ন দিয়ে মোহাম্মদপুরকে আবারও অশান্ত করার চক্রান্ত করছে।

মামুনুল হক প্রতিশ্রুতি দেন, “নির্বাচিত হলে মোহাম্মদপুর থেকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি সমূলে নির্মূল করা হবে। এখানে নারীদের জন্য নিরাপদ পার্ক এবং আধুনিক সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা যেভাবে বুক পেতে দিয়েছিল, ভোটাধিকার রক্ষায় তারা আবারও সেই একই ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার’ হয়ে মাঠে নামতে দ্বিধা করবে না।

স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল মোহাম্মদপুর নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ১১ দলীয় ঐক্যের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মাঠ ও সংলগ্ন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোনের ওপর কড়াকড়ির সিদ্ধান্তকে তরুণ ভোটাররা ভালোভাবে নিচ্ছেন না, যা আজকের সভায় নেতাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের কারিগরি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো যদি রাজনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি করে, তবে ভোটের দিন বড় ধরনের উত্তজনা তৈরি হতে পারে। এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Tags: jamaat ameer