দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থী বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের ফলে কুমিল্লার স্থানীয় রাজনীতিতে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিও ও ‘বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি বহিষ্কারের নেপথ্যে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বিতর্কিত ভিডিওর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (Social Media) একটি ভিডিও ভাইরাল (Viral) হয়, যেখানে তাকে বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং ভোটাররা অন্য কোথাও ভোট দিলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না; এমনকি তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও শোনা যায় তার কণ্ঠে। এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এআই বা ডিপফেক প্রযুক্তির দাবি তবে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ঘনিষ্ঠ মহল। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তার পক্ষে গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খান দাবি করেন যে, ভিডিওটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মান-সম্মান নষ্ট করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভিডিও বানানো হয়েছে। তার প্রকৃত বক্তব্য ছিল ভোটারদের ভয়ভীতি না পাওয়ার বিষয়ে। তবে দলের হাইকমান্ড এই ব্যাখ্যা গ্রহণ না করে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে ঋণখেলাপির (Loan Default) অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ও নানামুখী আলোচনা চলছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের দুঃসময়ে এ ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি এই কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
এই বহিষ্কারাদেশের ফলে দেবীদ্বার অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো যে, সংগঠন পরিপন্থী কোনো আচরণই বরদাশত করা হবে না।