ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও ব্যালট ছিনতাইয়ের অপরাধে শেরপুরে একজনকে বড় ধরনের শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। জেলার শেরপুর-১ (সদর) আসনে অবৈধভাবে ব্যালট ছিনতাই ও জাল ভোট প্রদানের দায়ে মাসুদ মিয়া নামের এক যুবককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড (Rigorous Imprisonment) দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court)। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের ৯৮ নম্বর নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুদ মিয়া স্থানীয় নলবাইদ এলাকার আবুল হাসেম কানির ছেলে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই কেন্দ্রে একদল দুষ্কৃতকারী অতর্কিত প্রবেশ করে। তারা মূলত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে দাবি করা হচ্ছে। কেন্দ্রে ঢুকেই তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেন এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে অবৈধভাবে সিল মারতে শুরু করেন। জানা গেছে, তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২৬টি ব্যালট পেপারে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সিল মেরে নির্ধারিত ব্যালট বক্সে (Ballot Box) ফেলে দেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ ও বিচারিক রায়
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্ত মাসুদ মিয়াকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ভূঁইয়া দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা ঘোষণা করেন। ব্যালট ছিনতাই ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মাসুদ মিয়াকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাকে আরও অতিরিক্ত কারাভোগ করতে হতে পারে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে পোলিং এজেন্টকে জরিমানা
একই ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি (Code of Conduct) লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তির আওতায় এসেছেন ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের একজন পোলিং এজেন্টও। দায়িত্বে অবহেলা ও আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ওই এজেন্টকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই অনড় অবস্থান থেকে এটি স্পষ্ট যে, কোনো পক্ষকেই ছাড় দিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা
সকালের এই উত্তেজনার পর নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসছেন। নির্বাচনী অপরাধ বা ‘Electoral Malpractice’ রোধে জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে।
শেরপুরের এই দৃষ্টান্তমূলক সাজা অন্য কেন্দ্রগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করেছে।