• রাজনীতি
  • টাঙ্গাইলের সংসদীয় ইতিহাসে অনন্য নজির: রাজপথ পেরিয়ে একযোগে সংসদে দুই ভাই পিন্টু ও টুকু

টাঙ্গাইলের সংসদীয় ইতিহাসে অনন্য নজির: রাজপথ পেরিয়ে একযোগে সংসদে দুই ভাই পিন্টু ও টুকু

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
টাঙ্গাইলের সংসদীয় ইতিহাসে অনন্য নজির: রাজপথ পেরিয়ে একযোগে সংসদে দুই ভাই পিন্টু ও টুকু

টাঙ্গাইল-২ ও টাঙ্গাইল-৫ আসনে ধানের শীষের জয়জয়কার; দীর্ঘ কারাবাস ও রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জনগণের রায়ে অভিষিক্ত দুই সহোদর।

দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে টাঙ্গাইল জেলা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জেলা এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হলো। টাঙ্গাইলের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে জয়ী হয়ে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা বা সংসদে যাচ্ছেন আপন দুই ভাই—সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক আবদুস সালাম পিন্টু এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। রাজনৈতিক লড়াই আর ত্যাগের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দুই ভাইয়ের এই দ্বৈত বিজয় জেলাজুড়ে এক অনন্য আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

টাঙ্গাইল-২: আবদুস সালাম পিন্টুর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট।

এই আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে Voter Turnout ছিল ৬৪.৫৬ শতাংশ। উল্লেখ্য, আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবাসের পর এই নির্বাচনটি তার জন্য ছিল এক বিশাল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং কামব্যাক বা প্রত্যাবর্তনের লড়াই।

সদর আসনে টুকুর চমকপ্রদ বিজয়

অন্যদিকে, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বাজিমাত করেছেন পিন্টুর ছোট ভাই এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৮০ হাজার ৮২৩ ভোট।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপির ছাত্র ও যুব সংগঠন—জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে নিজের Organizational Skills বা সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। এবার সংসদীয় রাজনীতিতে অভিষিক্ত হওয়ার মাধ্যমে তিনি টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করলেন।

এক পরিবার, দুই সাংসদ: নেপথ্যের সংগ্রাম

টাঙ্গাইলের এই দুই ভাইয়ের বিজয় কেবল একটি নির্বাচনি জয় নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক Political Legacy-র অংশ। আবদুস সালাম পিন্টু ২০০১ সালে শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ কারাজীবনের প্রেক্ষাপটে এই জয়কে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘ন্যায়বিচারের প্রতিফলন’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রাজপথের লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত। দুই ভাই একযোগে সংসদে যাওয়ায় টাঙ্গাইলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা।

উল্লাস ও আগামীর প্রতিশ্রুতি

ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই টাঙ্গাইলের গোপালপুর, ভূঞাপুর ও সদর এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ফুল দিয়ে দুই ভাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। বিজয়ের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দুই ভাই-ই জানিয়েছেন, তারা কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং টাঙ্গাইলকে একটি আধুনিক ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একই জেলা থেকে প্রভাবশালী দুই ভাইয়ের সংসদ সদস্য হওয়া টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক উন্নয়নে যেমন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতে পিন্টু-টুকু পরিবারের প্রভাব আরও বৃদ্ধি করবে।

Tags: political news bangladesh parliament election result bnp victory tangail election salam pintu salahuddin tuku