• রাজনীতি
  • রাষ্ট্র সংস্কার ও আগামীর মন্ত্রিসভা: গেজেট প্রকাশের আগেই বড় বার্তা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

রাষ্ট্র সংস্কার ও আগামীর মন্ত্রিসভা: গেজেট প্রকাশের আগেই বড় বার্তা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
রাষ্ট্র সংস্কার ও আগামীর মন্ত্রিসভা: গেজেট প্রকাশের আগেই বড় বার্তা দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

‘অপেক্ষা আর অল্প সময়ের’—বিজয় পরবর্তী প্রথম সাক্ষাৎকারে নতুন সরকারের রূপরেখা, শেখ হাসিনার বিচার ও আগামীর অগ্রাধিকার নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন দেশজুড়ে একটিই প্রশ্ন—কেমন হচ্ছে আগামীর মন্ত্রিসভা? দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া বিএনপির সম্ভাব্য ‘পাওয়ার হাউস’ বা মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা সমীকরণ। এই উত্তেজনার মধ্যেই ভবিষ্যৎ সরকার গঠন ও দলের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কক্সবাজার-১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রিসভা গঠন: ‘অপেক্ষা আর অল্প সময়ের’

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। কৌতূহলী জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। আমরা একটি আধুনিক, গতিশীল এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে—এমন একটি সরকার উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”

সালাহউদ্দিন আহমদের এই মন্তব্যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে, মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি এবার মেধা ও তারুণ্যের বড় ধরনের প্রতিফলন থাকতে পারে, যা এক ‘New Bangladesh’ গড়ার লক্ষ্যে সহায়ক হবে।

নির্বাচন ও গণতন্ত্রের বিজয়

এবারের নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ‘Milestone’ বা মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সারা বিশ্ব এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ছিল। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রায় শতভাগ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জনগণ তাদের ‘Mandate’ দিয়েছে। ভোটাররা কেবল ভোট দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তারা কেন্দ্র পাহারা দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করেছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর যে অভূতপূর্ব গণজোয়ার আমরা দেখেছি, তাতেই পরিষ্কার ছিল যে জনগণ পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে।”

আগামীর লক্ষ্য: মেধা ও প্রযুক্তি নির্ভর রাষ্ট্র

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই নেতা বিএনপির ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, রাষ্ট্র কাঠামোর ‘Democratic Reform’ বা গণতান্ত্রিক সংস্কারই হবে মূল কাজ। সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষায়, “আমরা একটি মেধা ও প্রযুক্তি নির্ভর (Tech-based) রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হবে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা ‘July National Charter’ আমাদের জন্য একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দলিল, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, নতুন সরকারের তিনটি মূল ‘Priority’ হবে—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি (Economic Growth) এবং জিরো টলারেন্স নীতিতে দুর্নীতি নির্মূল করা।

শেখ হাসিনার বিচার ও কূটনৈতিক অবস্থান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “যেহেতু তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং গুরুতর অভিযোগ আছে, তাই ভারত সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির (Extradition Treaty) ভিত্তিতে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এটি সম্পূর্ণ আইনি পথেই সম্পন্ন হবে।”

পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে তিনি জানান, সার্বভৌমত্ব ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে ‘Friendly Relations’ বজায় রাখবে বিএনপি।

গেজেট ও শপথ গ্রহণ

নির্বাচনী ফলাফলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন (EC) আজ বিকেলের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ করতে পারে। গেজেট প্রকাশের পরপরই সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং চূড়ান্তভাবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিজয় উল্লাসের মাঝেও সালাহউদ্দিন আহমদ নেতাকর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং একটি সাম্য ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যমসহ দেশের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

Tags: bangladesh politics sheikh hasina trial salahuddin ahmed state reform cabinet formation bnp victory new cabinet