• খেলা
  • আরিয়ানশ-সোহাইবের ব্যাটে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানো: কানাডাকে স্তব্ধ করে আরব আমিরাতের জয়

আরিয়ানশ-সোহাইবের ব্যাটে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানো: কানাডাকে স্তব্ধ করে আরব আমিরাতের জয়

খেলা ১ মিনিট পড়া
আরিয়ানশ-সোহাইবের ব্যাটে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানো: কানাডাকে স্তব্ধ করে আরব আমিরাতের জয়

বিপর্যয়ের মুখে ৬ নম্বরে নামা সোহাইবকে নিয়ে আরিয়ানশের হার না মানা লড়াই; রান তাড়ায় ৫ উইকেটের নাটকীয় ও স্বস্তির জয় আমিরাত শিবিরে।

ক্রিকেট মাঠে যখন সমীকরণ পাহাড়সম হয়ে দাঁড়ায়, তখনই প্রয়োজন হয় বীরত্বগাথার। সংযুক্ত আরব আমিরাত বনাম কানাডার মধ্যকার লড়াইয়ে ঠিক সেই চিত্রই ফুটে উঠল। কানাডার ছুড়ে দেওয়া ১৫০ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ঘোর সংকটে পড়েছিল আমিরাত। তবে আরিয়ানশ শর্মা ও সোহাইব খানের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৫ উইকেটের এক রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মরু দেশীয় ক্রিকেট শক্তি।

টপ অর্ডারের ধস ও জাফরের মিতব্যয়ী স্পেল

১৫১ রানের ‘টার্গেট’ (Target) সামনে রেখে ব্যাটিং শুরু করা আরব আমিরাত শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দলের সেরা চার ব্যাটার—মুহাম্মদ ওয়াসিম, আলিশান শরাফু, মায়াঙ্ক কুমার ও হার্শিত কৌশিক সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ‘সিঙ্গেল ডিজিট’ (Single Digit) রানে। কানাডার বোলার সাদ বিন জাফরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৬৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল আমিরাত। জাফর এদিন মাত্র ১৪ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

আরিয়ানশ-সোহাইবের ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ (Counter Attack)

দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান ওপেনার আরিয়ানশ শর্মা এবং ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা সোহাইব খান। তারা দুজনে মিলে গড়েন ৮৪ রানের এক ‘ক্রুশিয়াল পার্টনারশিপ’ (Crucial Partnership)। সোহাইব খান ঝড়ো গতিতে ২৯ বলে ৫১ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন, যা সাজানো ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায়। জয় থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে সোহাইব আউট হলেও অবিচল ছিলেন আরিয়ানশ। ৫৩ বলে ৭৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তাঁর এই ম্যারাথন ইনিংসে ছিল ৩টি ছক্কা ও ৬টি নান্দনিক চারের মার।

ডেথ ওভারে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী শেষ দুই ওভারে আমিরাতের প্রয়োজন ছিল ২৬ রান। সমীকরণ কঠিন মনে হলেও ১৯তম ওভারে ১৮ রান তুলে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় আমিরাত। ২০তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান আরও কমিয়ে আনেন আরিয়ানশ। যদিও তৃতীয় বলে সোহাইব আউট হয়ে কিছুটা নাটকীয়তার সৃষ্টি করেছিলেন, কিন্তু চতুর্থ বলে মুহাম্মদ আরফান ১ রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।

কানাডার ব্যাটিং বিপর্যয় ও হার্শ ঠাকেরের ফিফটি

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা কানাডা ২০ ওভারে ১৫০ রানের সংগ্রহ গড়ে মূলত হার্শ ঠাকেরের ব্যাটে ভর করে। ৫ নম্বরে নামা এই ব্যাটার ৪১ বলে ৩টি ছক্কা ও ২টি চারের সাহায্যে ঠিক ৫০ রান করেন। এছাড়াও নাভনীত ধালিওয়াল (৩৪) ও শ্রেয়াস মোভা (২১) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি তারা। কানাডার মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেনি।

এই জয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত যেমন পূর্ণ পয়েন্ট নিশ্চিত করল, তেমনি আরিয়ানশ ও সোহাইবের এই ‘ম্যাচ উইনিং’ (Match Winning) পারফরম্যান্স আইসিসি সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনা তৈরি করল।

Tags: match report uae cricket sports update cricket highlights t20 match canada cricket aryanansh sharma sohaib khan middle order winning partnership saad zafar harsh thaker