• দেশজুড়ে
  • রংপুর-৪ আসনে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ: ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনগণনার দাবিতে অনড় বিএনপি প্রার্থী

রংপুর-৪ আসনে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ: ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনগণনার দাবিতে অনড় বিএনপি প্রার্থী

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রংপুর-৪ আসনে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ: ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনগণনার দাবিতে অনড় বিএনপি প্রার্থী

সাড়ে ৮ হাজার ভোট সুপরিকল্পিতভাবে বাতিলের অভিযোগ তুলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এমদাদুল হক ভরসার; রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোট পুনগণনার আবেদন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ এখনো কমেনি রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে। এই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি (NCP) নেতা আখতার হোসেনের বিজয়কে ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ (Election Engineering) হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসকের ডাকবাংলো অফিসে উপস্থিত হয়ে তিনি নির্বাচনের ফলাফল পুনগণনার (Recounting) আনুষ্ঠানিক দাবি জানান।

ফলাফল জালিয়াতি ও ‘মব’ তৈরির অভিযোগ

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই অভিযোগের আঙুল উঠছিল স্থানীয় প্রশাসনের দিকে। বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহানের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগ দাখিল শেষে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “প্রশাসনকে সম্পূর্ণ কবজায় নিয়ে রংপুর-৪ আসনে ‘রেজাল্ট ম্যানিপুলেশন’ (Result Manipulation) করা হয়েছে। আমার ধানের শীষ প্রতীকের সাড়ে ৮ হাজার ভোট সুপরিকল্পিতভাবে বাতিল দেখিয়ে এনসিপির শাপলা কলি প্রতীককে ৯ হাজার ভোটে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।”

ভরসা আরও দাবি করেন, ভোটের দিন বিকেল ৩টার পর থেকেই এলাকায় এক ধরনের অস্থিরতা বা ‘মব’ (Mob) তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রতিপক্ষ প্রার্থী আখতার হোসেন পেশিশক্তি ব্যবহার করে কেন্দ্রগুলোতে কৃত্রিম ভীতি সৃষ্টি করেছিলেন, যা সাধারণ ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ভোট গণনার সময় জালিয়াতির সুযোগ করে দেয়।

অন্যান্য প্রার্থীর সংহতি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

কেবল বিএনপি নয়, এই আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায়ও ভোট পুনগণনার আবেদন জানিয়েছেন। এমদাদুল হক ভরসা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছভাবে ভোট পুনগণনা করা না হয়, তবে এই অবিচারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ম্যান্ডেট (Mandate) চুরি করে কাউকে সংসদ সদস্য হতে দেওয়া হবে না।”

অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার সময় পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দাবি করেন, পীরগাছা-কাউনিয়ার গণমানুষের রায়কে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও আগামীর সমীকরণ

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন ইতোমধ্যে এক বার্তায় প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানালেও বিএনপি প্রার্থীর এই কঠোর অবস্থান রংপুর-৪ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে আদালতের বারান্দা কিংবা রাজপথের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

Tags: bnp candidate local administration national election 2026 election engineering rangpur politics rangpur election vote recount ncp victory emdadul haque bharosa election manipulation election dispute vote rigging allegation