ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের নির্বাচনী লড়াই শেষ হলেও এর রেশ কাটছে না। বেসরকারি ফলাফলে সামান্য ব্যবধানে হারের পর এবার আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও এই আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। নির্বাচনী নথিপত্রে অসংগতি এবং প্রায় ৬ হাজার ভোট বাতিল হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ‘ভোট পুনর্গণনার’ (Vote Recounting) আবেদন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অসংগতির অভিযোগ ও ডাটা অ্যানালাইসিস
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, তাঁদের কাছে থাকা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যে বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। তিনি জানান, ডুমুরিয়া ও ফুলতলার প্রায় ১৫০টি কেন্দ্রের ‘রেজাল্ট শিট’ (Result Sheet) পর্যালোচনা করে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় অসংগতি ধরা পড়েছে।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে (Parliamentary Democracy) নির্বাচনই ক্ষমতার পালাবদলের একমাত্র পথ। আমরা একটি স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (EC) ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। তবে বেসরকারি ফলাফলে যে সামান্য ব্যবধান দেখানো হয়েছে, তা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না।”
বাতিল হওয়া ৬ হাজার ভোট নিয়ে রহস্য
খুলনা-৫ আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান যেখানে অত্যন্ত সামান্য, সেখানে ৬ হাজারেরও বেশি ভোট বাতিল হওয়াকে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ (Turning Point) হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গোলাম পরওয়ারের মতে, এই বাতিল হওয়া ব্যালটগুলো পুনরায় পরীক্ষা করা জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই বিশাল পরিমাণ ভোট কি আসলেই বিধিসম্মতভাবে বাতিল হয়েছে, নাকি কোনো যান্ত্রিক বা ইচ্ছাকৃত ভুল রয়েছে? অনেক ক্ষেত্রে ওভাররাইটিং (Overwriting) বা অংক লেখায় ভুল থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”
আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি
ইতোমধ্যেই জামায়াতের একটি বিশেষজ্ঞ দল সহকারী রিটার্নিং অফিসার, ইউএনও (UNO) এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংরক্ষিত ডাটা শিটগুলো (Data Sheets) মিলিয়ে দেখছেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “যদি যথাযথ আইনি ভিত্তি (Legal Ground) পাওয়া যায়, তবে আমরা অবশ্যই আদালতে কিংবা নির্বাচন কমিশনে পুনর্গণনার আবেদন করব। দেড় লাখ মানুষের ভোট আমার কাছে পবিত্র আমানত, তাঁদের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব।”
জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ফলাফল যাই হোক, ডুমুরিয়া ও ফুলতলার মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনে তিনি আপ্লুত। তিনি বলেন, “প্রায় দেড় লাখ মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন, এটা আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। এই অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসা আমি চিরকাল মনে রাখব।”
উল্লেখ্য, বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী খুলনা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলী আসগর লবি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট। মাত্র ২ হাজার ৭০২ ভোটের এই ব্যবধান এবং বাতিল হওয়া বিশাল সংখ্যক ভোটের সমীকরণ এখন এই আসনের নির্বাচনী ভাগ্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটিই দেখার বিষয়।