টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত লড়াই, ২২ গজের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মহারণ। কিন্তু এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ (High-Voltage) ম্যাচের উন্মাদনার মাঝেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতি। কলম্বোর আকাশ এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে চরম শঙ্কা জাগাচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বল গড়ানোর আগেই হানা দিতে পারে প্রবল বৃষ্টি। ফলে তিল ধারণের জায়গা না থাকা গ্যালারিতে আজ উৎসবের বদলে দর্শকদের বিষণ্ণ মনে অপেক্ষাই হতে পারে মূল গল্প।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বৃষ্টির দাপট শ্রীলঙ্কা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের (Low Pressure) প্রবাদে কলম্বো ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশ। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচ শুরুর কথা থাকলেও, ঠিক তার আগের এক ঘণ্টায় প্রায় ৫.১ মিলিমিটার বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরপর খেলা চলাকালীন সময় অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বর্ষণ (প্রায় ৩.৮ মিলিমিটার) অব্যাহত থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ পুরোপুরি পরিত্যক্ত হওয়া কিংবা ‘ডার্কওয়ার্থ-লুইস’ (DLS) পদ্ধতিতে ওভার কমিয়ে আনার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ ও সুপার এইট টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলের (Points Table) দিকে তাকালে দেখা যায়, বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দলেরই দুই ম্যাচে সংগ্রহ চার পয়েন্ট করে। যদি বৃষ্টির কারণে রবিবারের এই মেগা ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়, তবে দুই দলই ১ পয়েন্ট করে ভাগ করে নেবে। আর এই ১ পয়েন্ট পাওয়ার ফলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশেরই ‘সুপার এইট’ (Super Eight) পর্বে উত্তরণ গাণিতিকভাবে নিশ্চিত হয়ে যাবে। যদিও মাঠের লড়াই ছাড়া এমন সমীকরণ কোনো দলই প্রত্যাশা করে না।
প্রেমাদাসার অত্যাধুনিক প্রস্তুতি ও ড্রেনেজ সিস্টেম প্রকৃতি বিরূপ হলেও ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর জন্য আয়োজকদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম তার অত্যাধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম (Drainage System) এবং দক্ষ গ্রাউন্ড স্টাফদের প্রটোকলের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। কলম্বোর উষ্ণমণ্ডলীয় ভারী বর্ষণ সামাল দিতে এখানকার গ্রাউন্ড স্টাফরা পুরো খেলার মাঠ কভারে (Cover) ঢেকে রাখেন, যা সচরাচর অনেক আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে দেখা যায় না। এতে আউটফিল্ডে পানি জমার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
আয়োজক সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ম্যাচ আয়োজনে অতিরিক্ত ৬০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া মাঠের পানি সরাতে যান্ত্রিক ‘সুপার সপার’ (Super Sopper) ব্যবহারের পাশাপাশি অভিজ্ঞ গ্রাউন্ড স্টাফরা দ্রুততম সময়ে মাঠ খেলার উপযোগী করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। সাধারণত ভারী বৃষ্টি থামার ৪৫ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যেই এই মাঠে খেলা শুরু করা সম্ভব।
দর্শকদের জন্য পরামর্শ ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শনিবার সন্ধ্যায় কলম্বোয় টানা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় ভারতীয় দল তাদের প্র্যাকটিস সেশন (Practice Session) দ্রুত শেষ করে মাঠ ছাড়ে। দর্শকদের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য বিলম্ব বা বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্বের কোটি কোটি চোখ এখন কলম্বোর আকাশের দিকে—প্রকৃতি কি আজ এক রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার সুযোগ করে দেবে, নাকি বৃষ্টির দাপটে আবারও থমকে যাবে ক্রিকেটের সব উন্মাদনা?