জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে আজ রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনের নেপথ্যে ও ৭ দফা দাবি আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনের গেটে 'ভিসি ও প্রো-ভিসির পদত্যাগ চাই' সংবলিত ব্যানার টানিয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। তাদের মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডিপিপির (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) নামে দুর্নীতি ও কালক্ষেপণ, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা ডেকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আন্দোলনকারী শিক্ষক আল মামুন সরকার অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নতুন করে বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ক্রয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মতে, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে যারা নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রো-ভিসির ঘনিষ্ঠদের সুবিধা দিচ্ছে। এমনকি জমিদাতা পরিবারের সদস্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগও উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চলমান ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুবর্ণা জানান, সকালে ক্যাম্পাসে এসে তারা দেখেন প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ। ক্লাস বন্ধ থাকায় এবং পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাদীকুর রহমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, ভিসি এবং প্রো-ভিসি ক্যাম্পাসে আসছেন। তারা পৌঁছানোর পর আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।