অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদের ভেতরে যেমন গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, তেমনই মাঝেমধ্যেই উঠে আসে নানা ছোট ছোট ঘটনা, মন্তব্য কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত— যেগুলো আলাদা করে নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের। এসব টুকিটাকি বিষয় কখনও হাস্যরসের সৃষ্টি করে, আবার কখনও উসকে দেয় বিতর্ক।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও এমন কিছু ঘটনার অবতারণা হয়।
‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ভালোবেসে একটা কথা বলেছেন’
পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদকে লক্ষ্য করে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “আমি দাঁড়ালেই ভালোবাসার কিছু কথা বলতে হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালকে আমাদের অনুপস্থিতিতে আমাকে ভালোবেসে বলেছেন যে, আমি নাকি অসত্য কথা বলেছি। আসলে আল্লাহ তাআলা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন; জাস্ট বোতলটা পরিবর্তন করে মেটেরিয়াল ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতেই দাঁড়িয়েছি।”
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা হলো ‘মিথ্যা’। তিনি ‘অসত্য’ বললে আমি আপত্তি করতাম না। আমি এই ‘মিথ্যা’ শব্দটাকে অসংসদীয় হিসেবে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।”
‘ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে’— হানজালার নালিশ
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দীন আহমাদ হানজালাকে জঙ্গি সম্বোধন করেছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। হানজালার মতে, সেই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে।’
পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে সাঈদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা বলেন, ‘আমি প্রথমবার দাঁড়িয়ে কথা বলছি— আসলে এভাবে কথা বলতে চাইনি। চেয়েছিলাম যখন আমার সময় আসবে আনুষ্ঠানিকভাবে একটু সুন্দরভাবে কথা বলবো। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে— গত ২৩ মার্চ আপনার (স্পিকার) সহধর্মিণীর জানাজায় আমি গিয়েছিলাম এবং উপস্থিত হয়েছিলাম। দক্ষিণ প্লাজা থেকে যখন আমি ভেতরে ঢুকবো একদম কাছাকাছি, পেছন থেকে কেউ একজন আমাকে সম্বোধন করছিল—‘ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে’।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব লেখালেখি এবং আলোচনা চলছে। জাতীয় সংসদের একজন রানিং এমপিকে সংসদের কাছে যখন জঙ্গি বলে সম্বোধন করা হয়, এটার জন্যে এই সংসদের মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও মনে তিনি। এসময় তিনি স্পিকারের মাধ্যমে অনুরোধ জানান যেনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংসদের নিরাপত্তা বাহিনীকে অনুরোধ করবেন বা নির্দেশ দিন কারা এই কাজটি করেছে তা খুঁজে বের করতে।
এর জবাবে স্পিকার বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক অভিহিত করেন এবং সেই সংসদ সদস্যকে একটি নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের বিষয়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি আপনার দৃষ্টিতে একটি খবর আনতে চাই, আজকে (একটি ইংরেজি দৈনিকের নাম উল্লেখ করে) খবর প্রকাশিত হয়েছে, এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য কদাকার, কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন, কুৎসিত ভাষায় তারা বক্তব্য দিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এ বিষয়ে বিচার চাইছি।”
জবাবে স্পিকার জানান, সংবাদপত্রের রিপোর্টিং নিয়ে সরাসরি পয়েন্ট অফ অর্ডারে বিচার চাওয়ার সুযোগ নেই, তবে তিনি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন।
পুলিশ ডাকার পরামর্শ দিলেন মন্ত্রী
জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে সংসদ সদস্যদের অসম্মানিত হওয়া ও সংকটে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, “গতকালই (বুধবার) দেখলাম আমাদের একজন সংসদ সদস্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে কিছুটা অসম্মানিত হয়েছেন। এর আগে আরেকজন সংসদ সদস্য তেল না পেয়ে সংকটে পড়েছিলেন। আমরা প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০টা ফোন পাচ্ছি। আমার এলাকা বাউফলে পেট্রোল পাম্প না থাকায় ডিলাররা কারসাজি করছেন। তারা দোকান বন্ধ করে দিয়ে নিজেদের বাড়িতে তেল বিক্রি করছেন। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “বাউফলে জ্বালানি সংকটে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা উত্তরণে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?”
জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। ডিলাররা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পালিয়ে যায় বা কারসাজি করে, তবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে (পুলিশ) জানান। তারা ডিলারকে ধরে এনে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করবে।