• দেশজুড়ে
  • দিনাজপুরে ভুট্টা খেত থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার: নেপথ্যে করুণ এক কাহিনী

দিনাজপুরে ভুট্টা খেত থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার: নেপথ্যে করুণ এক কাহিনী

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দিনাজপুরে ভুট্টা খেত থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার: নেপথ্যে করুণ এক কাহিনী

বিরামপুরের ধানঘরা গ্রামে মিলল নিখোঁজ কিশোর স্বাধীনের নিথর দেহ; মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় একটি ভুট্টা খেতের নির্জনতা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের ধানঘরা (কাউয়া ভাসা) গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কিশোরের নাম স্বাধীন বাবু, যে পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার নরহরিপুর গ্রামের ওবায়দুল হকের পুত্র।

ভুট্টা খেতে কিশোরের নিথর দেহ: যেভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার দুপুরের দিকে ধানঘরা গ্রামের একটি ভুট্টা খেতের ভেতরে এক কিশোরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। মুহূর্তেই খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দিওড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক দ্রুত পুলিশকে অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে বিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন মিলল সন্ধান: এক বিষণ্ণ বাস্তবতা পারিবারিক ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীন বাবু দীর্ঘ দিন ধরে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ (Mental Illness) বা বিশেষ মানসিক জটিলতায় ভুগছিল। সে প্রায়ই কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যেত এবং দুই-তিন দিন পর আবার ফিরে আসত। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্জন কবরস্থান, জনশূন্য ভুট্টা খেত কিংবা উঁচু স্থানে একাকী রাত কাটানো ছিল তার এক অদ্ভুত অভ্যাস। গত রবিবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজলেও সোমবার দুপুরে বিরামপুরের ভুট্টা খেতটিই পরিণত হয় তার শেষ গন্তব্যে।

তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে কিশোরটিকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার শরীরে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”

এই ঘটনায় বিরামপুর থানায় একটি অপমৃত্যু বা ইউডি (UD Case) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত (Investigation) অব্যাহত রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।