• আন্তর্জাতিক
  • ভেনেজুয়েলা সফরে নজর ট্রাম্পের, তেল পরিকল্পনা নিয়ে সংশয়

ভেনেজুয়েলা সফরে নজর ট্রাম্পের, তেল পরিকল্পনা নিয়ে সংশয়

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ভেনেজুয়েলা সফরে নজর ট্রাম্পের, তেল পরিকল্পনা নিয়ে সংশয়

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর এবার দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি সফরের পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশ্বের বৃহত্তম তেলের খনি সমৃদ্ধ দেশটিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও তেল উত্তোলনের পথ প্রশস্ত করাই তার মূল লক্ষ্য। তবে জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ট্রাম্পের এই ‘তেল পরিকল্পনা’ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

জানুয়ারির মাঝামাঝিতে হোয়াইট হাউজে জ্বালানি খাতের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আমরা এমনভাবে তেল উত্তোলন করতে যাচ্ছি যা খুব কম মানুষই আগে দেখেছে।

মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সম্প্রতি দুই দিনের ভেনেজুয়েলা সফর শেষ করেছেন। মূলত মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলার তেল খাত উন্মুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করতেই এই সফর।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদ সম্প্রতি তেল শিল্পে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি বেশ জটিল। ট্রাম্প মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো মেরামতে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু বিশেজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ এখন কঙ্কালসার। কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উৎপাদন ব্যাপক কমে গেছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উদীয়মান বাজার বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম জ্যাকসন বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছর আগে ভেনেজুয়েলা বর্তমানের চেয়ে প্রতিদিন ১৫ লাখ ব্যারেল বেশি তেল উৎপাদন করত। এখন সেখানকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামগুলো অবহেলার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

কাগজে-কলমে ভেনেজুয়েলার ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুদ থাকলেও ২০২৩ সালে তারা মাত্র ৪ বিলিয়ন ডলারের তেল রফতানি করেছে। তুলনায় সৌদি আরবের মজুদ কম (২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল) হলেও তারা একই সময়ে ১৮১ বিলিয়ন ডলারের তেল রফতানি করেছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার তেল সৌদি তেলের তুলনায় নিম্নমানের, এটি ঘন এবং এতে সালফারের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পাইপলাইনে ক্ষয় সৃষ্টি করে।

মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় বড় বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছে। ২০০৭ সালে এক্সন মবিল ও কনোকো ফিলিপসের মতো বড় কোম্পানিগুলোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিল তৎকালীন শ্যাভেজ সরকার। সেই ক্ষতিপূরণের বিশাল অঙ্কের অর্থ আজও পরিশোধ করেনি ভেনেজুয়েলা। এক্সন মবিলের প্রধান ড্যারেন উডস বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলাকে ‘বিনিয়োগের অনুপযুক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।

পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের সিনিয়র ফেলো মনিকা ডি বোলে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যেখানে তারা লাতিন আমেরিকার সম্পদকে নিজেদের মনে করে। কিন্তু বেসরকারি খাত বর্তমানে এক পা-ও নড়ছে না।

Tags: পরিকল্পনা ট্রাম্প সংশয় তেল ভেনেজুয়েলা সফর