• আন্তর্জাতিক
  • ‘আমাদের হাতেও পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত’: রাশিয়ার হুমকির মুখে পোল্যান্ডের নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল

‘আমাদের হাতেও পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত’: রাশিয়ার হুমকির মুখে পোল্যান্ডের নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘আমাদের হাতেও পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত’: রাশিয়ার হুমকির মুখে পোল্যান্ডের নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল

ক্রেমলিনের আগ্রাসন মোকাবিলায় নিজস্ব পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পক্ষে কড়া সওয়াল করলেন প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরোকি; ইউরোপের নিরাপত্তা মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের আভাস।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) যে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে, তার সবশেষ প্রতিফলন দেখা গেল পোল্যান্ডের শীর্ষ নেতৃত্বে। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবার সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে মত দিয়েছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরোকি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (National Security Strategy) অবশ্যই পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা উচিত।

রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী লালসা ও পোল্যান্ডের উদ্বেগ

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় পোলসাত (Polsat) টেলিভিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট নাওরোকি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো (Politico)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোলিশ প্রেসিডেন্ট এখন থেকেই দেশটির ‘নিউক্লিয়ার প্রোজেক্ট’ (Nuclear Project) নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

নাওরোকি বলেন, "আমরা এমন একটি দেশ যারা সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের সীমান্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। রাশিয়ার আগ্রাসী ও সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব এখন আর কারও অজানা নয়। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে যে, রাশিয়ার প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। তাই আন্তর্জাতিক সব নিয়ম মেনেই আমাদের নিজস্ব পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার পথে হাঁটা উচিত।"

ইউরোপীয় প্রতিরক্ষায় আস্থার সংকট

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ইউরোপের দেশগুলো এখন নিজেদের স্বনির্ভর করার কথা ভাবছে। এতদিন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলো মূলত মার্কিন ‘নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’ বা পারমাণবিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনের পরিবর্তিত বৈদেশিক নীতির কারণে ওয়ারশ বা বার্লিনের মতো রাজধানীগুলোতে নিজেদের ‘ডিট্যারেন্স’ (Deterrence) বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আলোচনা জোরদার হয়েছে।

নাওরোকি আরও যোগ করেন, "রাশিয়া যেকোনো উস্কানিতেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এমন একজন প্রতিবেশীর সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের নিরাপত্তা জোরদার করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।"

ইউরোপজুড়ে নতুন মেরুকরণ

পোল্যান্ডের এই সাহসী অবস্থান একক কোনো ঘটনা নয়। লাতভিয়ার প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনাও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, ইউরোপে রাশিয়ার মোকাবিলায় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস জানিয়েছেন, ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে তাদের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা নীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি পোল্যান্ড সত্যিই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোয়, তবে তা ন্যাটো (NATO) এবং ক্রেমলিনের মধ্যকার ভারসাম্যকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মহলে পোল্যান্ডের এই ‘নিউক্লিয়ার অ্যাম্বিশন’ কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়।

Tags: world politics nuclear weapons poland news russia threat karol nawrocki european defense nato security nuclear project kremlin aggression poland president