বিশ্বের পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টের শক্তি আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে (Global Passport Index) বড় অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স’-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের তুলনায় দুই ধাপ এগিয়েছে লাল-সবুজের পাসপোর্ট। বর্তমানে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম, যা গত তালিকায় ছিল ৯৫তম। এই উন্নতির ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কিছু দেশে আগাম কোনো ‘ভিসা’ (Visa) সংগ্রহের ঝক্কি ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
পাসপোর্টের বিশ্ব র্যাংকিং: শীর্ষে কারা? হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে বৈশ্বিক মানদণ্ডে বরাবরের মতোই আধিপত্য বজায় রেখেছে এশিয়ান ও ইউরোপীয় দেশগুলো। নতুন সূচক অনুযায়ী, এককভাবে শীর্ষস্থানে (Rank 1) অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর। যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তালিকায় চতুর্থ স্থানে যৌথভাবে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং স্পেনের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতি আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।
ভিসা ছাড়াই মিলবে ৩৭ দেশে প্রবেশের টিকিট নতুন তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকলে এখন বিশ্বের ৩৭টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করা সম্ভব হবে। তবে এর মধ্যে কিছু দেশে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার, আর কিছু দেশের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে ‘ভিসা অন-অ্যারাইভাল’ (Visa-on-arrival) বা বিমানবন্দরে নামার পর ভিসা পাওয়ার সুবিধা। এছাড়া কিছু দেশের ক্ষেত্রে যাত্রার আগে ‘ই-ভিসা’ (E-visa) নিশ্চিত করতে হবে।
কোন কোন দেশে যাওয়ার সুযোগ থাকছে? বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা যেসব দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
এশিয়া ও ওশেনিয়া: ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, তিমুর লেস্তে, কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউই, সামোয়া, টুভালু এবং ভানুয়াতু।
আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল: বাহামা, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো।
আফ্রিকা: বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে আইল্যান্ডস, কমোরো আইল্যান্ডস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সেশেলস, সিয়েরা লিওন এবং গাম্বিয়া।
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নতুন সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাসপোর্টের মানোন্নয়ন কেবল পর্যটনের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের এই ‘ডিপ্লোমেটিক’ (Diplomatic) এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে পাসপোর্ট সূচকে। তবে অন-অ্যারাইভাল ভিসার ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন পলিসি বা শর্তাবলি থাকতে পারে, তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের তথ্য যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পাসপোর্টের এই সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য এখন বিদেশের মাটিতে যাতায়াত আরও সহজ ও সুলভ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।