সৌদি আরবের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদের ওপর ভিত্তি করে চাঁদপুরের ৫টি উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামের বাসিন্দারা বুধবার থেকে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় চাঁদপুরের ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা পীর ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ স্থানীয় সূত্র জানায়, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রামের মানুষ বুধবার সেহরি খেয়ে রোজা পালন শুরু করবেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতেই এসব গ্রামের মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজের বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলার সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরিফের বর্তমান গদীনশীন পীর ইমামুল আরেফিন ড. মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমানও বুধবার থেকে রোজা পালনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
যেসব গ্রামে রোজা শুরু হচ্ছে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর ও বাসারা গ্রামে বুধবার থেকে রোজা রাখা হবে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, সোনাচোঁ, উটতলি, মুন্সিরহাটসহ প্রায় ২০টি গ্রামে একই নিয়ম অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া মতলব উপজেলার দেওয়ানকান্দি, বাহেরচর পাঁচআনীসহ ১৮টি গ্রাম এবং কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় আগাম রোজা পালন করা হবে।
ঐতিহাসিক পটভূমি সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা ও ঈদ পালনের এই প্রথা চালু করেন মাওলানা ইসহাক (রহ.)। ১৯৩২ সাল থেকে তিনি নিয়ম করেন যে, সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সেই সংবাদের ভিত্তিতেই রোজা ও ঈদ পালন করা হবে। সেই থেকে গত ৯৩ বছর ধরে চাঁদপুরের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা একই রীতি পালন করে আসছেন।
তারাবির প্রস্তুতি মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এসব এলাকার মসজিদে মসজিদে তারাবির আজান ও জামাত আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়। গ্রামের বাসিন্দারা ধর্মীয় আবেগ ও উৎসাহের সঙ্গে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।